বন্ধুত্ব ও প্রতিশোধের গল্প
  • ২৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

• সেদিন প্রকৃতির মতোই গুমোট আবহাওয়া জনাইয়ের মিত্রবাড়ির। ভিতরে পা রাখতেই পুলিশ। জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে টিনা, মিতা, স্নেহা, রাহুলরা। ওদের বন্ধু তুষার নিখোঁজ। থানার বড়োবাবুর প্রশ্নের কোনও সঠিক উত্তর ওদের কাছে নেই। যাঁর কাছে আছে, তিনি বসে আছেন এক কোণে, মনিটরের সামনে। পরিচালক সায়ন বিশ্বাস। তাঁর তৃতীয় ছবি ‘নন্দিনী তোর জন্য’র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের শ্যুটিং চলছে তখন। 

Advertisement

নন্দিনী আসলে কে জানা গেল ছবির অন্যতম মুখ্য অভিনেতা সঞ্জীব সরকারের কাছ থেকে। তিনি ছবিতে ‘বীরু কাকা’। নন্দিনী তারই মেয়ে। কড়া অঙ্কের মাস্টারের নির্মম শাসনে কিশোরীবেলায় আত্মঘাতী হয় নন্দিনী। টিনা, মিতারা অকাল প্রয়াত নন্দিনীর সহপাঠী। জনাইয়ের মিত্রবাড়ি তখন বিষ্ণুপুরের এক বনেদি বংশের ছেলে অভিষেকদের বাড়ির ‘সেট’। সঞ্জীব বললেন, ‘বীরু এই বাড়ির কর্মচারী। মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর দগদগে ক্ষত সে বহন করে চলেছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘ওরা সব নন্দিনীর বন্ধু। ওদের দেখে এক ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ স্পৃহা জেগে উঠছে বীরুর মনে। চরিত্রের এই অবয়বটাই আমার কাছে অভিনব লেগেছে। একদিকে স্নেহশীল পিতা, অন্যদিকে অপরাধী।’ কথার মধ্যেই দরজা ঠেলে ছাদের খোলা পরিসরে এসে দাঁড়ালেন অপরাজিতা আঢ্য। এতক্ষণ মেকআপ নিচ্ছিলেন। তিনি এখন পারমিতা দেবী। গৃহকর্ত্রী, অভিষেকের মা। তিনি বললেন, ‘আমি হয়তো সারা ছবিজুড়ে নেই। তবে অন্যরকম চরিত্র। মানুষটি আংশিক মানসিক ভারসাম্যহীন। কখনো স্বাভাবিক। কখনো অস্বাভাবিক আচরণ করে সে। চরিত্রের এই রহস্যময় দিকটাই আকর্ষণ করেছে আমাকে।’  
অবশেষে লাঞ্চ ব্রেক দিয়ে ছাদের ফুরফুরে হাওয়ায় এসে দাঁড়ালেন পরিচালক সায়ন। বললেন, ‘সাসপেন্স থ্রিলার হলেও এই গল্প বন্ধুত্বের। প্রতিশোধ এই ছবির আর একটা দিক বলতে পারেন।’ ছোটো ও বড়ো পর্দার ডাকসাইটে দুষ্টু লোক দেবরাজ মুখোপাধ্যায় এই ছবির পুলিশ ইন্সপেক্টর। ‘কড়া বড়োবাবু কিন্তু হালকা রসবোধও আছে। আবার বাচ্চাগুলোকে সন্দেহ করলেও ওদের প্রতি স্নেহশীল’, মুচকি হেসে বললেন দেবরাজ। বিউনি ফিল্ম অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট নিবেদিত জিয়া রায় প্রযোজিত ছবিতে অন্যান্য মুখ্য ভূমিকায় আছেন দেবেশ রায়চৌধুরী, দেবমাল্য গুপ্ত প্রমুখ। ছবির সম্ভাব্য মু্ক্তি নভেম্বরে। 
প্রিয়ব্রত দত্ত