Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ায় পোড়াহাটের জমিতে এবার মাথা তুলবে ছ’তলা মার্কেট কমপ্লেক্স

হাওড়ায় পোড়াহাটের জমিতে এবার মাথা তুলবে ছ’তলা মার্কেট কমপ্লেক্স
  • ৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ২০২৩ সালের ২০ জুলাই রাতে আগুনে ভস্মীভূত হয়েছিল হাওড়ার পোড়াহাটের (মঙ্গলাহাটের অংশ) কয়েক হাজার দোকান। পরদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলাহাটের ওই জমি কী অবস্থায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশও তখন দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার দু’বছর পর সমস্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে পোড়াহাটে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির কাজ শুরু করতে চলেছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। সেখানেই পুনর্বাসন দেওয়া হবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের। পোড়াহাটের জমি রাজ্য সরকারের অধীনে রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সেখানে একটি নোটিস ঝুলিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী মাসেই মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পোড়াহাটের প্রায় ২.৬ একর জমিতে একটি ছ’তলা মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি হবে। পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন দু’বছর আগের ক্ষতিগ্রস্তরা। সেই সঙ্গে হাওড়া থানা সংলগ্ন এলাকায় রাস্তাযর উপর যাঁরা মালপত্র নিয়ে বসেন, তাঁদেরও পুনর্বাসনের আওতায় নিয়ে আসার কথা ভাবছে প্রশাসন। প্রস্তাবিত মার্কেট কমপ্লেক্সে থাকবে কার পার্কিংয়ের সুবিধা। ফলে মঙ্গলাহাটকে কেন্দ্র করে সপ্তাহে প্রায় তিনদিন হাওড়া ময়দান চত্বরজপড়ে যে চরম যানজট হয়, সেই সমস্যা মিটবে বলে আশাবাদী প্রশাসনের কর্তারা। আগামী এক মাসের মধ্যে নির্মাণ শুরু করবে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। ইতিমধ্যেই কেএমডিএর ইঞ্জিনিয়াররা সেখানে গিয়ে মাটি পরীক্ষার কাজ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে পোড়াহাটের জমিতে একটি নোটিস ঝোলায় জেলা প্রশাসন। জমিটি রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন বলে সেখানে লেখা রয়েছে। জেলাশাসক পি দীপাপ্রিয়া বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হয়ে গিয়েছে। মার্কেট কমপ্লেক্সের কাজ চলাকালীন বিকল্প জায়গায় তাঁদের সরে যেতে হবে। তার জন্য জায়গা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাতে কোনও বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সেজন্যই কাজ শুরুর আগে নোটিস টাঙানো হল।’
স্থানীয় সূত্রে খবর, অগ্নিকাণ্ডের পর এতদিনে সেখানে নতুন করে স্টল তৈরি করেছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে প্রায় সাত হাজার ব্যবসায়ী আছেন ‘পোড়া’ মঙ্গলাহাটে। তবে প্রশাসনের তরফে নোটিস ঝোলানোর পর ওই ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ওই জমির মালিকানা তাঁদের বলে দাবি করেছেন দু’জন ব্যবসায়ী। এমনকী, ওই জমির জন্য নিয়মিত তাঁরা হাওড়া পুরসভাকে ট্যাক্সও দেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু জেলার ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের রেকর্ডে জমির মালিক হিসেবে ওই দু’জনের নাম নেই। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্তা বলেন, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেটস অ্যাকুইজিশন অ্যাক্ট (১৯৫৩) অনুযায়ী এই জমির মালিকানা স্বত্ব রাজ্য সরকারেরই। তার ভিত্তিতেই কাজ শুরু হবে।’ এখানে প্রশ্ন, তাহলে কীভাবে পুরসভায় সম্পত্তি কর জমা করছেন ওই দুই ব্যবসায়ী? বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির (সেন্ট্রাল) সভাপতি মলয় দত্ত বলেন, ‘সরকারের তরফে পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য যদি মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি হয়, তাতে ব্যবসায়ীদের ভালোই হবে। কিন্তু কমপ্লেক্সের কাজ চলাকালীন অন্যত্র গিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। তাতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়বেন ওই কয়েক হাজার ছোট-বড় ব্যবসায়ী।’ - নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ