নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি সিদ্ধান্তে এবার কলকাতা পুরসভায় রেজিস্ট্রার হিসাবে নিযুক্ত হবেন একজন রাজ্য সরকারি অফিসার। একমাত্র তিনিই জন্ম এবং মৃত্যু শংসাপত্রের সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করবেন। মাত্র একজন রেজিস্ট্রার কীভাবে এই বিপুল সংখ্যক সার্টিফিকেটের ‘দায়িত্ব’ নেবেন বা এর ফলে কতদিনে সার্টিফিকেট ইস্যু করা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, সরকারের এই নির্দেশের পরই বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে বিপুল চাপ সামলাতেই এই দায়িত্ব বিভিন্ন বরোতে রেজিস্ট্রারদের উপর ছাড়া হয়েছিল। ডেথ সার্টিফেকেটের ক্ষেত্রে প্রাথমিক চাপ সামলাতেন শ্মশানের সাব- রেজিস্ট্রার। কিন্তু নয়া বিধি কার্যকর হলে সার্টিফিকেট ইস্যু করা সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়াবে। ভোগান্তি বাড়বে নাগরিকদের—মত পুরসভার আধিকারিকদের।
গত দু’মাস জন্ম এবং মৃত্যুর শংসাপত্রের পোর্টাল বন্ধ। সেক্ষেত্রে ডিলেইড রেজিস্ট্রেশন (আগে জন্ম বা মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু দেরি করে সার্টিফিকেট তোলা হচ্ছে) এবং পুরানো শংসাপত্রের ডিজিটালাইজেশনের জন্য প্রায় ২৫ হাজার আবেদন জমা পড়ে রয়েছে। পোর্টাল না খুললে সমস্যায় পড়ছে মানুষ। রোজ পুরসভায় এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অনেকে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন কারণে এখন জন্ম এবং মৃত্যুর ডিজিটাল শংসাপত্র অনেক জায়গায় চাইছে। সেক্ষেত্রে এত মাস গড়িয়ে যাওয়ার পরেও পোর্টাল না খোলায় সমস্যা অনেক বেড়েছে। রোজ পুরসভায় এনিয়ে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। এক আধিকারিক বলেন, ‘আশা ছিল, পোর্টাল খুললে সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু এখন যে নতুন নিয়ম চালুর কথা বলা হচ্ছে, সেখানে মাত্র একজন রেজিস্ট্রারের পক্ষে এই বিপুল সংখ্যক সার্টিফিকেট খতিয়ে দেখা এবং সেটা ইস্যু করা কখনোই বাস্তবসম্মত নয়। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যাতে কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে পুরানো নিয়ম চালু রাখা যায়।’
বর্তমানে জন্ম এবং মৃত্যুর শংসাপত্রে স্বাক্ষরের দায়িত্ব কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে বণ্টন করা আছে। ১৬টি বরোতে একজন করে রেজিস্ট্রার আছেন। এছাড়া বিভিন্ন শ্মশানে রয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রাররা। কিন্তু নতুন সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে তাঁদের আর স্বাক্ষর করার ক্ষমতা রইল না। তাহলে রোজ যে জন্ম এবং মৃত্যু হচ্ছে, তার সার্টিফিকেট এবার কে দেবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, এখনও রেজিস্ট্রার নিযুক্ত হয়নি।