


নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁথি: দু’টি কিডনি নষ্ট। সপ্তাহে দু’বার ডায়ালিসিস করাতে হয়। শরীর সায় না দেওয়ায় কাঁথির দুরমুঠ গ্রামের সঞ্জয় মাইতি মিটিং, মিছিলে যেতে পারেন না। এজন্য তাঁর মনে কষ্ট হয়। সেই কষ্ট লাঘব করতে নিজের বাঁ হাতে ট্যাটু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম লিখে রেখেছেন। মনেপ্রাণে তৃণমূল ভক্ত সঞ্জয়বাবু প্রতিদিন কাঁথির মেচেদা বাইপাসে বাসকর্মী ইউনিয়ন রুমে বসেন। তিনি দীঘা বাস অপারেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ম্যানেজার। বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেই সর্বত্র এনিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। সঞ্জয়বাবুও সেই আলোচনায় যোগ দিচ্ছেন। কিন্তু, শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজে কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারছেন না। এনিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন। তবে, সভা সমিতিতে যেতে না পারলেও তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থবার শপথ নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে এই ভোট থেকেই কাঁথি থেকে বিজেপির বিদায়ঘণ্টা বাজবে।
৬৮ বছর বয়সি সঞ্জয়বাবু দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্রেস করতেন। তারপর ২০০২ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস করছেন। বাম জমানায় বিরোধী রাজনীতি করার জন্য তিনি হার্মাদ বাহিনীর হাতে নৃশংস অত্যাচারের শিকার হন। তাঁর পেট লক্ষ্য করে ভাঙা বোতল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজও পেটে সেই দাগ স্পষ্ট। তাঁর স্ত্রী ঝর্না মাইতি ওরফে ঊষা দুরমুঠ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন। ভাই রঞ্জন মাইতি দু’ বার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছিলেন। দীর্ঘকাল ধরে সঞ্জয়বাবু সক্রিয়ভাবে পার্টি করেছেন। নিয়মিত মিটিং, মিছিলে হেঁটেছেন। কিন্তু, অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আর সম্ভব হচ্ছে না। এই মুহূর্তে সপ্তাহে দু’ বার ডায়ালিসিস করাতে হয়। শরীর ভালো নেই। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা থেকে নিজের বাঁ হাতে ট্যাটু করে নাম লিখেছেন।সঞ্জয়বাবু বলেন, বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে ধাপ্পা দেয়। ২০১৯ সাল ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে পর পর আমরা এই ভাঁওতাবাজি প্রত্যক্ষ করেছি। এ রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতেও তাঁদের অস্ত্র সেই প্রতিশ্রুতি আর গ্যারান্টি। আমি নিশ্চিত, এর কোনো মূল্য নেই। শুধুমাত্র মানুষকে বোকা বানাতেই এধরনের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়। মানুষের জন্য প্রকৃত উন্নয়ন করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষ লক্ষ মানুষের আশা ভরসা তিনি। কাঁথির সাংসদ এবং বিধায়ক বিজেপির। অথচ, এই কাঁথিতে ওরা সেভাবে কিছু করতে পারেনি। আমার ধারণা, এখান থেকে তৃণমূল জয়ী হলে আরও বেশি উন্নয়ন হবে।
২০২১ সালে কাঁথি উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। এবার ওই দুই কেন্দ্রের বিধায়করাই ফের টিকিট পেয়েছেন। এনিয়ে পার্টির ভিতর ক্ষোভের চোরাস্রোত বইছে। শুধুমাত্র দাদার কাছের লোক হওয়ার সুবাদে এই সুবিধা বলে আদি বিজেপির একটা অংশ আওয়াজ তুলেছেন। এই সুযোগে কাঁথি থেকে বিজেপিকে হারানোর স্লোগানও ওঠেছে। সেই স্লোগানে সঞ্জয় মাইতির মতো অসুস্থরাও শামিল।
সঞ্জয় মাইতি।-নিজস্ব চিত্র