নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তমলুক ব্লকের কেলোমাল মৌজায় নতুন সাবস্টেশন তৈরি শুরু করল বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। ১৯কোটি ৬৩লক্ষ টাকা খরচে এই সাবস্টেশন তৈরি হলে তমলুক গ্রামীণের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুতের সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। প্রায় ৫০হাজার মানুষ এতে উপকৃত হবেন। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সাবস্টেশনের কাজ সম্পূর্ণ করার টার্গেট আছে। এজন্য স্বাস্থ্যদপ্তর প্রায় ৬০ডেসিমেল জমি দিয়েছে। ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল ট্রান্সফারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা সেই জমি পাওয়ার পর কাজ শুরু করেছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ৪৬টি সাবস্টেশন রয়েছে। তমলুকের রাধামণি ও আশপাশের এলাকায় ধারিন্দা সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। কিন্তু দূরত্বের কাছে রাধামণি, কেলোমাল সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভোল্টেজ সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া, কোলাঘাট-হলদিয়া ১১৬নম্বর জাতীয় সড়ক থাকায় নতুন ফিডার নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছিল। তমলুক ও আশপাশের এলাকায় আবাসন গড়ে উঠছে। বসবাসকারীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রাধামণির আশপাশে একটি সাবস্টেশনের দাবি জোরালো হচ্ছিল। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার পূর্ব মেদিনীপুর রিজিওনাল অফিস থেকেও এনিয়ে সুপারিশ করা হয়।
তাই দীর্ঘদিন ধরে সাবস্টেশন তৈরির জন্য জমির খোঁজ চলছিল। শেষমেশ কেলোমাল সরকারি বেসিক ট্রেনিং কলেজ লাগোয়া স্বাস্থ্যদপ্তরের ৬০ডেসিমেল জমি পায় বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। এরপর চারপাশে দেওয়াল গড়ে সাবস্টেশন তৈরির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। নতুন সাবস্টেশন থেকে পাঁচটি ইলেভেন কেভিএ ফিডার বের হবে। ধারিন্দা রেলগেট লাগোয়া সাবস্টেশন থেকে রাধামণি পর্যন্ত সাপ্লাই লাইনে অনেক লোড পড়ে। নতুন সাবস্টেশন হলে সেই সমস্যা থাকবে না। এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং লো ভোল্টেজ সমস্যার সমাধান হবে।
কেলোমাল সন্তোষিনী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মৃন্ময় মাজি বলেন, এই তল্লাটে নতুন সাবস্টেশন তৈরির দাবি অনেকদিন ধরেই জানিয়ে আসা হচ্ছে। অবশেষে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা আমাদের সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে। এতে বহু মানুষের উপকার হবে। গরমের সময় অতিরিক্ত লোডের কারণে লোডশেডিং হয়। ঝড়বৃষ্টির ফলে কোথাও লাইন ছিঁড়ে গেলে তা মেরামত করতে সময় লাগে। নতুন সাবস্টেশন হলে রক্ষণাবেক্ষণে আরো এজেন্সি যুক্ত হবে। এর ফলে কোনো কারণে বিপর্যয় হলে তাড়াতাড়ি সমাধান হবে।