


লখনউ: বিজেপি শাসিত রাজ্যে ফের নিগ্রহের শিকার উত্তর-পূর্বের বাসিন্দা। রবিবার সন্ধ্যায় উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর এইমসের ক্যাম্পাসের কাছে বর্ণবিদ্বেষী কটূক্তি ও শ্লীলতাহানির শিকার এক তৃতীয় বর্ষের রেসিডেন্ট চিকিৎসক। নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসক নাগাল্যান্ডের বাসিন্দা। এই ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে সুরজ গুপ্তা (২২) ও অমৃত বিশ্বকর্মা (২১) নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বাড়ি দেওরিয়া জেলায়। তৃতীয় অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তরুণী চিকিৎসককে এভাবে হেনস্তার ঘটনায় সরব বিরোধী শিবির। কংগ্রেসের দাবি, ‘নরেন্দ্র মোদির আমলে নিয়মিত এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। ঘৃণা, জাতিবিদ্বেষী মনোভাব ও হিংসা মাত্রা ছাড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন শিবির নির্বিকার। ফাঁপা বুলি ও স্লোগান দিয়ে বাস্তবকে আড়াল করা যাবে না। গোরক্ষপুরের ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিল, দেশে বিশেষ করে উত্তর-পূর্বের মহিলারা কতটা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার রাত ৮টা নাগাদ মহদ্দিপুরের একটি শপিং মল ফেরার পথে ওই তরুণীর পিছু নেয় তিন বাইক আরোহী যুবক। অভিযোগ, প্রায় দেড় কিলোমিটার ধাওয়া করে এইমস ক্যাম্পাসের ২ নম্বর গেটের কাছে তরুণীকে ঘিরে ধরে তারা। বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের পাশাপাশি গালাগালি করতে থাকে দুষ্কৃতীরা। এরইমধ্যে একজন জামা খুলে তরুণীর দিকে এগিয়ে যায়। অন্যজন গায়ে হাত দিতে শুরু করে। তরুণীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসতেই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় তারা। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব ন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেসিডেন্ট ডক্টরস অব এইমস অ্যান্ড আইএনআইএস। কড়া সমালোচনা করেছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমাও। তিনি বলেন, ‘উত্তর-পূর্বের মহিলাদের বর্ণবিদ্বেষের শিকার হওয়া ও যৌন হেনস্তার ঘটনা দিনের পর দিন সংবাদের শিরোনামে আসছে। পরে সবাই ভুলে যাচ্ছে। আবার কোনো নতুন ঘটনায় তা ইস্যু হয়ে উঠছে। এটা কাম্য নয়। মহিলার শালীনতায় আঘাত কোনো সভ্য জাতির পক্ষে সহনীয় নয়। দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’