Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলেই বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে প্রার্থী ঘোষণা

বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণ। একদিকে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞতাকে, পাশাপাশি সামনে নিয়ে আসা হয়েছে তরুণ মুখকে

তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলেই  বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে প্রার্থী ঘোষণা
  • ১৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণ। একদিকে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞতাকে, পাশাপাশি সামনে নিয়ে আসা হয়েছে তরুণ মুখকে। রাজ্যের অন্যান্য জায়গার তুলনায় বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ভোট বরাবর কিছুটা  ‘টাফ’। এখানে কোন কেন্দ্রে জোড়াফুলের প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে গত কয়েকদিন তুঙ্গে ছিল জল্পনা। মঙ্গলবার বিকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। বারাকপুর লোকসভার মধ্যে একমাত্র ভাটপাড়া আসনটি বিজেপির দখলে রয়েছে। সেই কেন্দ্র পুনরুদ্ধার করতে এবার তৃণমূলের বাজি ভাটপাড়ার ভূমিপুত্র তথা বর্তমান পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্য অমিত গুপ্তা। তিনি প্রয়াত কংগ্রেস নেতা ধরমপাল গুপ্তার ছেলে। ভাটপাড়ায় অত্যন্ত পরিচিত মুখ। প্রার্থী হয়েই তাঁর তোপ, ‘জুট মিল শ্রমিকদের জন্য কী করেছেন অর্জুন সিং, পবন সিং? এবারের ভোটে তার কৈফিয়ৎ দিতে হবে।’ 

Advertisement

এই লোকসভা কেন্দ্রের আরেকটি নজরকাড়া কেন্দ্র বীজপুর। মুকুল রায়ের মৃত্যুর পর অনেকে ধারণা করেছিলেন, তাঁর ছেলেকে হয়তো বীজপুরে প্রার্থী করা হতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক চর্চাও হয়েছিল। কিন্তু মমতা-অভিষেক ভরসা রাখলেন বীজপুরের ‘দাবাং’ বিধায়ক সুবোধ অধিকারীর উপরেই। তাঁর নাম ঘোষণা হতেই বীজপুরজুড়ে কার্যত উৎসব শুরু করে দেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। বাজিও ফাটানো হয়। সুবোধ অধিকারী বলেন, ‘গত পাঁচ বছর আমি মানুষের আপদে বিপদে পাশে থেকেছি। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ আমার সঙ্গেই থাকবে।’ 
নৈহাটিতে তৃণমূল ভরসা রেখেছে উপ নির্বাচনে জয়ী সনৎ দে’র উপর। তাঁর নাম ঘোষণা হতেই তিনি চলে যান সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বাড়িতে। তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। সন্ধ্যায় তাঁর সমর্থনে বিশাল মিছিল বেরয়। স্ত্রী সোনালী দে স্বামীর নাম দেওয়াল লিখন শুরু করেন।  বিজেপির চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের জন্য জগদ্দল কেন্দ্রে ফের টিকিট পেয়েছেন সোমনাথ শ্যাম। এই সংবাদ আসতেই জগদ্দলজুড়েও উৎসবে মেতে ওঠেন ঘাসফুলের সমর্থকরা। দেওয়াল লিখন শুরু হয় শ্যামনগরে। সোমনাথ শ্যাম বলেন, ‘মানুষই আমার শক্তি। বিজেপির গুন্ডারাজকে আমি ভয় পাই না।’ 
২০০০ সালে বিকাশ বসু খুন হওয়ার পর নোয়াপাড়ায় তাঁর স্ত্রী মঞ্জু বসুকে প্রার্থী করেছিলেন মমতা। কিন্তু তাঁর শারীরিক সক্ষমতা কিছুটা কমে আসায় এবার টিকিট পাননি। এই কেন্দ্রে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে টিকিট দিয়েছে দল। বয়সে তরুণ তৃণাঙ্কুর বলেন, ‘আমি নোয়াপাড়াবাসীর সঙ্গে সবসময় থাকব।’ আর ঐতিহাসিক শহর বারাকপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা রাখলেন চিত্রপরিচালক রাজ চক্রবর্তীর উপরেই। তাঁর টিকিট পাওয়া নিয়ে অবশ্য তেমন কোনো সংশয় ছিল না। গত একমাস ধরে তিনি বারাকপুরে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি পালন করেছেন। এদিন দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, ‘গত ৫ বছরে বারাকপুরবাসীর জন্য আমি কাজ করেছি। আমাকে বারাকপুরবাসী ফেরাবে না।’ উল্লেখ্য, সুবোধ অধিকারী, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য ও রাজ চক্রবর্তী—তিনজনই সাধক কবি রামপ্রসাদ সেনের মাটি হালিশহরের ভূমিপুত্র। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ