Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোলপুরে স্মৃতি উসকে দিতে থিমে ফিরল ডাকঘর থেকে মাদুরের মণ্ডপ

প্লাস্টিকের দাপটের যুগে হস্তশিল্পীদের সঙ্কট এবং তাঁদের দিকেও যাতে একটু নজর পড়ে সেই বার্তাও উঠে এসেছে পুজোর থিমে

বোলপুরে স্মৃতি উসকে দিতে থিমে ফিরল ডাকঘর থেকে মাদুরের মণ্ডপ
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পিনাকী ধোলে, বোলপুর: এবার পুজোয় হাড্ডাহাড্ডি থিমের লড়াই বোলপুর শহরে। কোনও পুজো কমিটি থিমের মাধ্যমে ফিরিয়ে দিতে চাইছে স্মার্টফোনের যুগে কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডাকবক্সের নস্টালজিয়া, কোনও পুজো কমিটি আবার তুলে ধরছে মনুষ্যত্বের অবক্ষয়। প্লাস্টিকের দাপটের যুগে হস্তশিল্পীদের সঙ্কট এবং তাঁদের দিকেও যাতে একটু নজর পড়ে সেই বার্তাও উঠে এসেছে পুজোর থিমে।

Advertisement

বোলপুরের জামবুনি সর্বজনীন দুর্গাপুজো সমিতির ৪২তম বর্ষের থিম ‘ডাকঘর’। উদ্যোক্তাদের দাবি, ডিজিটাল দুনিয়ায় হাতের মুঠোয় চলে এসেছে প্রযুক্তি। স্মার্টফোনের দাপটে কার্যত হারিয়ে যেতে বসেছে ডাকবাক্স। সেখানে দাঁড়িয়ে প্রাচীন বার্তাবহন ব্যবস্থাকে পুজো মণ্ডপে থিমের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় ডাক পরিষেবায় কর্মরত রানারদের কাজ কী ছিল, সেই কাজ কতটা কঠিন ছিল, সেইসব ভাবনা দেখা যাবে এবছরের থিমে। পুজো কমিটির সম্পাদক তাপস মণ্ডল বলেন, স্মার্টফোনের যুগে আর কেউ চিঠি লেখেন না। কীভাবে হাতে লন্ঠন আর কাঁধে চিঠির বোঝা নিয়ে দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছুটে বেড়াত ‘রানার’, তা এই নতুন প্রজন্ম জানে না। বা সেইসব হারিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলিই থিমের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পী মান্না বেজ। পাশাপাশি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, ক্ষুদিরাম বসু সহ বাঙালি মনীষীদের ডাক টিকিটও দেখতে পাওয়া যাবে মণ্ডপে।   
বোলপুরের সুরিপাড়া অগ্রগামী সঙ্ঘের এবারের থিম ‘মনুষ্যত্ব’। ক্লাবকর্তাদের দাবি, দিনদিন মনুষ্যত্বের অবক্ষয় হচ্ছে। দেশজুড়ে বেড়েই চলেছে নারী নির্যাতনের ঘটনা। ধর্ষিত হতে হচ্ছে শিশুদেরও। আইন করেও বন্ধ করা যাচ্ছে না বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা। অবাধে বৃক্ষচ্ছেদন, জলের অপচয় হচ্ছে। সবকিছুই করছে এই মনুষ্যজাতিই! ক্লাবের সম্পাদক চন্দন মণ্ডল বলেন, মানুষ মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলছে। কীভাবে মনুষ্যত্ব হারাচ্ছে, তাই থিমের মাধ্যমে মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলছি আমরা। মনুষ্যত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মায়ের কাছে আরাধনা করব আমরা। 
স্কুলবাগান সর্বজনীনের এবছরের টিম ‘দৃষ্টি থাকুক সৃষ্টিতে’। বেতের ঝুড়ি, কুলো, মাটির পুতুল থেকে শুরু করে বিভিন্ন হারিয়ে যেতে বসা সামগ্রী দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে। এই থিম ক্লাবের সম্পাদক সোমনাথ মিত্রের মস্তিস্ক প্রসূত। সোমনাথবাবু বলেন, যাঁরা বেতের ঝুড়ি, কুলো তৈরি করে বিক্রি করেন, কিংবা নানাবিধ সামগ্রী নিজের হাতে তৈরি করে বিক্রি করেন, আজ তাঁরাই সবচেয়ে বড় সঙ্কটে। আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত। হস্তশিল্পে উত্পাদিত সামগ্রীর জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিক। ফলে সেইসব শিল্পীদের আজ আর কদর নেই। তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সেইসব শিল্পীদের দিকে নজর ফেরাতেই এই থিমের ভাবনা।
মণ্ডপসজ্জায় অন্যান্য পুজো কমিটিগুলিকে রীতিমতো টেক্কা দিচ্ছে আদ্যশক্তি সঙ্ঘ। ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা তথা কাউন্সিলার শিবনাথ রায় বলেন, মাদুর, গামছা, থেকে শুরু করে খেজুর পাতা দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে। এই মুহূর্তে জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ