নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আচমকা দেখলে মনে হবে কুমোরটুলির বিশালাকৃতি দাঁতাল হাতিটি বোধহয় জীবন্ত। আসলে তা নয়। ১২ ফুটের এই দাঁতাল ফাইবারের। চলতি মাসের শেষের দিকে এটি কুমোরটুলি থেকে পাড়ি দেবে হাজারিবাগের উদ্দেশ্যে। সেখানকার একটি দর্শনীয় স্থানে হাতিটি বসানো হবে। দু’মাস আগে হাতি তৈরির বরাত মিলেছিল। রাতদিন এক করে ছ’জন শিল্পী সেই হাতি তৈরির কাজ চালাচ্ছেন পটুয়াপাড়ায়। দুর্গা প্রতিমার কাজ কিছুটা দূরে সরিয়ে রেখে এই হাতি তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে।
শুক্রবার কুমোরটুলি স্ট্রিটে শিল্পী মন্টি পালের একটি গোডাউনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বাঁশ, খড়‑কুঠো বোঝাই একটি ঘরের ভিতরের এক পাশে তৈরি হচ্ছে এই বিশাল হাতিটি। চলছে তাতে রঙের কাজ। দুই শিল্পীকে দেখা যায় স্প্রে মেশিনে রং করতে। কেউ কেউ শিল্পীদের প্রশ্ন করেন, এই হাতটির দাম কতো? উত্তরে হাসতে হাসতে এক শিল্পীর অধীনে থাকা এক কারিগর বলে ওঠেন, কথায় আছে না, মরা হাতির দামও লাখ টাকা। এবার বুঝে নিন এই ধরনের ফাইবারের হাতির দাম ঠিক কত হতে পারে। কেউ কেউ মৃৎশিল্পী সমিতির ঘরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, বলতে পারেন এই হাতিটির আনুমানিক মূল্য ঠিক কত হতে পারে? হেসেই গড়াগড়ি দেন সমিতির কর্তারা।
এদিন কথা হচ্ছিল শিল্পী মন্টিবাবুর সঙ্গে। তিনি বলেন, হাজারিবাগেও অনেক শিল্পী আছেন। কিন্তু কুমোরটুলির প্রতি রয়েছে একটা আলাদা আবেগ ও ভালোবাসা। আর সেই কারনে অনেকেই কলকাতার এই কুমোরটুলিতে বরাত দিয়ে থাকেন প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি নানা স্থাপত্য‑ভাস্কর্যের কাজ। ফলে হাজারিবাগ থেকেও মানুষজন আসেন এখানে এই হাতি তৈরির বরাত দিতে। এই শিল্পীর কথায়, এর আগেও এই রাজ্য ছাড়িয়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে গিয়েছে নানা পশু‑পাখীর মূর্তি। তাতে জুটেছে নানা সম্মানও। আমরা আশা করছি এবারও হাজারিবাগ থেকে মিলবে ফাইবারের দাঁতাল হাতিটি তৈরির জন্য সম্মানপ্রাপ্তি।