সংবাদদাতা, ডোমকল: এলাকার মেয়ে পছন্দ হয়নি। তাই পড়শি এক ঘটককে সঙ্গে নিয়ে জেলার বাইরে, বিহারে সুন্দরী যুবতীর খোঁজে গিয়েছিলেন ইসলামপুরের যুবক। উদ্দেশ্য ছিল, পছন্দ হলেই পাত্রীকে একেবারে বিয়ে করে ঘরে আসবেন। কিন্তু, মালদহের এক ঘটকের খপ্পরে পড়ে সব বানচাল! উল্টে, কপালে জুটল মারধর। বাড়িতে আটকে রেখে দাবিও করা হল মোটা মুক্তিপণের। অবশেষে ইসলামপুর থানার পুলিস ও মালদহের চাঁচল থানার সহযোগিতায় সোমবার রাতে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে চোখে-মুখে একরাশ আতঙ্ক নিয়ে বাড়ি ফেরেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসলামপুরের ওই যুবকের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে। নতুন সঙ্গীর খোঁজে বাড়ির পাশের এক ঘটকের সাহায্য নেন তিনি। প্রথমে মালদহের এক পাত্রী দেখতে যান দু’জনে। ওই পাত্রীকে যুবকের মনে ধরেনি। সেখানেই আলাপ হয় আর এক ঘটকের সঙ্গে। তাঁকে নিয়ে বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় পাত্রী দেখতে যান ওই যুবক। পাত্রী বেশ সুবেশা। পছন্দও হয়ে যায়। তবে, ফাঁস হয়ে যায় যুবকের একাধিক বিয়ের কথা। তাতেই চটে যায় পাত্রীপক্ষ। আটকে রেখে তাঁদের ব্যাপক মারধর করা হয়। প্রাণে বাঁচতে তাঁরা পালিয়ে আসেন। আশ্রয় নেন মালদহের ওই ঘটকের বাড়িতে। প্রথমদিকে সৌজন্যমূলক ব্যবহার করলেও পরে ওই ঘটকই তাঁদের ফাঁদে ফেলেন। যুবকের পরিবারের দাবি, সোমবার তাঁদের একটি ঘরে আটকে রেখে মুক্তির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার দাবিও করা হয়। বাধ্য হয়ে যুবক বাড়িতে ফোন করলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরিবারের লোকেরা তখন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য লক্ষণ দাসের দ্বারস্থ হন। অবশেষে ইসলামপুর থানার পুলিস মালদহের চাঁচল থানার সহযোগিতায় সোমবার রাতে যুবক ও তাঁর পরিবারকে উদ্ধার করে। তবে পুরো ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিস।
যুবক বলেন, ‘বিয়ে করতে মালদহে গিয়েছিলাম। পরে পূর্ণিয়ায়ও গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখান থেকে শুরু হয় বিপত্তি। প্রথমে বিহারে, পরে মালদহে আমাদের সঙ্গে যা ঘটল, তা কল্পনাও করতে পারিনি।’
পাশের গ্রামের ঘটক বলেন, ‘ছেলেটি আমার পরিচিত। তাই পাত্রী দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওর বাড়ির লোকেরাই বিহারের ওই পরিবারের লোকেদের একাধিক বিয়ের খবর জানাতেই আমাদের মারধর করে।
পরে মালদহে আশ্রয় নিলে সেখানেও আমাদের আটকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।’ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য লক্ষ্মণ দাসের কথায়, ‘ওঁদের পরিবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমিই থানায় খবর দিই। এরপরই পুলিস অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে।’