নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: লক্ষ মানুষের ভিড়ে ভাসল তমলুক শহরের কালীপুজোর মণ্ডপগুলি। বিকেলের পর থেকেই সড়ক পথে শহরের মানিকতলা, হাসপাতাল মোড়ে প্রচুর মানুষ আসতে শুরু করেন। একইসঙ্গে রেলপথে তমলুক ও শহিদ মাতঙ্গিনী স্টেশনেও দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই পৌঁছে যান। বিকেল থেকে যে স্রোতের শুরু, সন্ধ্যার পর তা বাঁধভাঙা জলের মতো ধেয়ে আসে। হাসপাতাল মোড় থেকে বাদামতলা যাওয়ার রাস্তা এবং তমলুক রাজবাড়ি থেকে কোর্ট কম্পাউন্ড যাওয়ার রাস্তা পুরোপুরি দর্শনার্থীদের দখলে চলে যায়। অন্তত ১৫-২০টি বিগ বাজেটের পুজো মণ্ডপ থিমের চমক এনেছে। আর তার টানেই জনসুনামি। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হাওড়া থেকে মানুষজন এসেছেন। তমলুক শহরে কালীপুজো মানেই যে গণ উন্মাদনা। মঙ্গলবার সেটা আরও একবার চাক্ষুষ করা গেল।
হাসপাতাল মোড়ে ফাইভস্টার ক্লাবের থিম ‘ফিরে দেখা’। পুরনো, জীর্ণ এবং ক্ষয়ে যাওয়ার মন্দিরের আদলে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যার শিল্প ভাবনায় অসাধারণ হয়েছে মণ্ডপ। উত্তরপ্রদেশ থেকে আনা হয়েছে ২৫ জনের অঘোরি দল। তাদের পারফরম্যান্সও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। লাইন পড়ছে হাসপাতাল মোড়ে আরেকটি পুজো মণ্ডপ বিদ্রোহী সংঘেও। মণ্ডপ সংলগ্ন মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতেও ভিড়। হাসপাতাল মোড় থেকে বাদামতলায় উত্তরায়ণ ক্লাব পর্যন্ত পাঁচ মিনিটের হাঁটাপথ পেরতে আধ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। উত্তরায়ণ ক্লাবের আলপনা থিমের চেয়েও বেশি নজর কাড়ছে হুবহু দক্ষিণেশ্বরের কালীমূর্তির আদলের প্রতিমা। রাখাল মেমোরিয়াল স্টেডিয়াম গেটে কিশোর সংঘের ‘হংস সরোবর’ থিমও বেশ নজর কেড়েছে। মণ্ডপের ভিতর আলোর রোশনাই তা আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। গোটা রাস্তাজুড়ে দোকানপাট বসেছে।
শহরের নিমতলা থেকে কলেজ ক্যাম্পাস, হরির বাজার থেকে মানিকতলা সর্বত্রই মানুষে ছয়লাপ। শালগেছিয়া অমরসংঘের থিম ‘সংকল্প’ এবং এই এলাকার রাজদূত ক্লাবের ‘পরম্পরা’ থিম দেখতে শহরের নিমতলা মোড় থেকে প্রচুর ভিড় হয়। এছাড়াও বর্গভীমা মন্দির সংলগ্ন সবুজপাতা, হ্যামিল্টন হাইস্কুলে চত্বরে সানরাইজ ক্লাবের থিমের মণ্ডপ ঘিরে জনস্রোতের ছবি। তমলুক শহরে হরির বাজার অ্যাথলেটিক ক্লাবের মণ্ডপ দেখতে বহু অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের নিয়ে হাজির হচ্ছেন। থিম ‘শিক্ষাই আসল পথ’। মণ্ডপে যাওয়ার পর একের পর এক সিঁড়ির ধাপ। প্রতিটে সিঁড়িতে লেখা মহাপুরুষদের বাণী। আজকের শিশু একদিন পড়াশোনা করেই এপিজে আব্দুল কালামের মতো জগৎবিখ্যাত বিজ্ঞানী, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো কবি হয়ে উঠবে, এমনই বার্তা ছড়িয়েছে এই পুজো কমিটি। কচিকাঁচাদের অনুপ্রেরণা জোগানোর জন্য মণ্ডপ ঘুরে দেখাচ্ছেন বড়রা।
তাম্রলিপ্ত হ্যামিল্টন কলেজের পিছনে ভাই ভাই সংঘ এবং সামনে চকোলেট বয় ক্লাবের থিম দেখতে ভিড় আছড়ে পড়ছে। চকোলেট বয় ক্লাবের থিম দক্ষিণী সুপারহিট সিনেমা পুষ্পার দৃশ্য। ভাই ভাই সংঘের গামছার তৈরি প্রতিমা বেশ নজর কাড়ছে। ভিড়ের ঠেলায় কলেজ রোডও অবরুদ্ধ। তমলুক শহরে মানিকতলা সংলগ্ন সিম্ফনি ক্লাবের সভ্যতার রক্ষাকবচ থিমও বেশ নজর কেড়েছে। কালীপুজো ঘিরে শহরের অলিগলি থেকে রাজপথ সর্বত্র আলোর বন্যা বইছে। আর তার সঙ্গে লক্ষ মানুষের ভিড়। কালীপুজো আর তমলুক যেন একে অপরের পরিপূরক।-নিজস্ব চিত্র