সিনেমার সমালোচনা: ককটেল ২
সিনেমার সমালোচনা: ককটেল ২
পুরানো গ্লাসে নতুন ‘ককটেল’ পরিবেশন করেছেন পরিচালক হোমি আদাজানিয়া। গ্ল্যামারের চাকচিক্যের উপর ভর করে সমকালীন সম্পর্কের গল্প। তবে সেই গল্প কতখানি আধুনিক আর কতখানি পুরানো ধ্যানধারণার প্রতিফলন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকেই। ‘ককটেল ১’-এর সঙ্গে তুলনায় না যাওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। পরিচালক এক হলেও দুই ছবির লেখক আলাদা। ইমতিয়াজ আলির সঙ্গে লাভ রঞ্জনের গল্প বলার ফারাক রয়েছে। তাই প্রথম ছবির সঙ্গে দ্বিতীয় ছবির ধাঁচ সম্পূর্ণ আলাদা। ছবির কেন্দ্রে কলেজ জীবনের প্রেমিক-প্রেমিকা কুণাল (শাহিদ কাপুর) আর দিয়া (রশ্মিকা মন্দানা)। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তাদের। লিভ ইন থাকলেও বিয়েতে অনাগ্রহী দু’জনেই। ইতালির সিসিলিতে বেড়াতে গিয়ে তাদের জীবনে আসে অ্যালি (কৃতী শ্যানন)। দিয়ার অনুরোধে কুণালের ভালোবাসা পরীক্ষা করতে যায় অ্যালি। আর তাতেই বিপত্তি। বান্ধবীর প্রেমিককে মন দিয়ে বসে অ্যালি। শুরু হয় ত্রিকোণ প্রেম। কুণালও অ্যালির ডাকে সাড়া দেবে নাকি সে দিয়ার ‘আদর্শ প্রেমিক’, তা নিয়েই এগিয়েছে গল্প। সমস্যা হল, এই ঘটনাপ্রবাহ ভীষণই অবাস্তব আর অযৌক্তিক মনে হবে। চরিত্রদের বিশ্বাস করাই কঠিন হয়ে ওঠে। প্রশ্ন জাগে, অ্যালি কেন নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে বন্ধুর প্রেমিকের ভালোবাসা পরীক্ষা করতে যাবে? নিজের সিদ্ধান্তে দিয়া স্থির থাকতে পারেনি— সে কখনো ধূর্ত, কখনো বিভ্রান্ত আবার কখনো বান্ধবীর জন্য প্রেমকেও বিসর্জন দিতে রাজি। কেন? এই প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব মেলে না ছবিজুড়ে। ‘ভালোবাসার পরীক্ষা’ নেওয়াকে যেভাবে স্বাভাবিক হিসাবে দেখানো হয়েছে, তা অস্বস্তিকর। ভালোবাসাকে মুড়িমুড়কির মতো উপস্থাপন অযৌক্তিক!