ইচ্ছাকৃতভাবেই আগুন লাগানো হয় সুপার মার্কেটের ঝুপড়িতে!
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: ধূপগুড়ি সুপার মার্কেটে আগুনের গ্রাসে ১৪টি ঝুপড়ি দোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন মোড়! তদন্তে উঠে এসেছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। সেখানে দেখা যাচ্ছে এক ব্যক্তি আগুন ধরাচ্ছে। এটি কি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে নাকি ব্যবসায়ীদের রেষারেষির জেরে আগুন, এ নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। এর আগেই ধূপগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবসায়ী সমিতি আগুন লাগানোর ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ তুলেছিলেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে জেলাশাসককে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হবে বলে ধূপগুড়ির মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা জানান। 

Advertisement

রবিবার মধ্যরাতে ধূপগুড়ির সুপার মার্কেটে একাধিক স্থানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একাধিক স্থানে আগুন লাগার ঘটনায় ব্যবসায়ীরা অনুমান করেছিলেন, এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। এই আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে ১৪টি ঝুপড়ি। এই ঝুপড়ির মধ্যে কয়েকজন তাঁদের সংসার চালানোর জন্য দোকান করলেও বেশকিছু আলু ব্যবসায়ী সুপার মার্কেটের জমি দখল করে ঝুপড়ি তৈরি করে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। এর ফলে সুপার মার্কেটের আয়তন কমে যাচ্ছিল এবং জবরদখল উচ্ছেদের দাবিও উঠছিল। 
সোমবার ঘটনাস্থলে এসেছিলেন ধূপগুড়ির এসডিও, আইসি সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। ঘটনার তদন্তে একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার হয়। যেখানে দেখা যায় এক ব্যক্তি বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগাচ্ছে। ধূপগুড়ি সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুজয় ঘোষ বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম এটি কোনো দুষ্কৃতীর কাজ। সুপার মার্কেটের কমপ্লেক্সের ঘরগুলি লটারির মাধ্যমে বণ্টন হয়। অনেক ব্যবসায়ী ঘর পাননি। তাঁরা ভাড়া নিয়ে ঝুপড়ি করে দোকান চালাচ্ছেন, এতে তাঁদের সুবিধা হচ্ছে। যে বা যারা এটি ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের কাছে আমরা কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা চাই।  এর আগে ধূপগুড়ির কলেজপাড়ায় একইরকম ঘটনা ঘটেছিল। পরপর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পরবর্তীতে একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ধূপগুড়ি পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশকুমার সিং বলেন, কিছু ব্যক্তি ধূপগুড়িকে অশান্ত করার চক্রান্ত করছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে একজন ব্যক্তি অগ্নিসংযোগ করছে। প্রশাসনের কাছে কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। ধূপগুড়ি থানার এক পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সাহায্যে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।