চতুর্থী থেকেই উৎসবের আমেজ,  কাপড়ের দোকানে উপচে পড়া ভিড়
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: চতুর্থী থেকেই উৎসবের আমেজ জেলাজুড়ে। শেষ মুহূর্তেও বাজারে কেনাকাটার ভিড়। শুধু বহরমপুর নয়, ফরাক্কা থেকে শুরু করে জলঙ্গি, লালবাগ, কান্দি, সর্বত্র বস্ত্র বিপণিতে এদিন তীব্র ভিড় লক্ষ করা যায়।

Advertisement

পুজোর আগে শাড়ি ও জামাকাপড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ঘর সাজানোর জিনিস, খাবার দাবারও ভালো বিক্রি হচ্ছে। এদিনও সাজার জিনিসের দোকান, দশকর্মা ও মুদির দোকানে লাইন দিয়ে মানুষ নানা জিনিস কেনেন। বিভিন্ন শপিং মলে দুপুর ১২টা থেকেই ক্রেতাদের ঢল নামে। বহরমপুর সদরের খাগড়া বাজারে ছোটবড় বস্ত্র প্রতিষ্ঠানে এদিন ভালোই বিক্রি হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। এবছর পাটের দাম ভালো থাকায় প্রথম থেকেই বাড়তি কেনাকাটা শুরু হয়। বহু পরিযায়ী শ্রমিক এসময় ভিনরাজ্য ও ভিনদেশ থেকে জেলায় ফেরেন। তাঁরাও জমিয়ে কেনাকাটা করছেন। সে কারণে বাজারে বিক্রি বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। বহরমপুরের এক নামী বস্ত্র প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার শেখরচাঁদ মারুঠি বলেন, এবছর বাজার বেশ ভালো। পুজোর মুডে ঢুকে পড়েছে সকলে। শেষের দিকেও কেনাকাটার ধুম পড়েছিল। বহরমপুর সদর এলাকায় বাইরে থেকে প্রচুর মানুষ এসে বাজার করেন বলেই বিক্রিবাটা ভালো হয়।
কেনাকাটায় বেরিয়ে একটু খাওয়ালাওয়া না করলে পুজো পুজো আমেজটা ঠিক আসে না। তাই এদিন দুপুর থেকে বিভিন্ন রেস্তরাঁয় ভালো ভিড় দেখা দিয়েছে। অনেকেই কেনাকাটা সেরে বাড়ি ফিরে আর রান্নাঘরে ঢোকেননি। দুপুরে রেস্তরাঁ থেকেই মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে বাড়ি ফিরেছেন। আবার কেউ কেউ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কেনাকাটার পর ডিনার সেরে তবেই বাড়ি ফেরেন।
বহরমপুরের মোহন মলের একটি অভিজাত রেস্তরাঁর কর্ণধার অরিজিৎ গুপ্ত বলেন, গত তিন সপ্তাহ থেকে শনি ও রবিবার রেস্তরাঁয় ভালোই ভিড় হচ্ছে। মানুষ দোকানে দোকানে ঘুরে কেনাকাটার পর হাঁপিয়ে গেলে আমাদের ফুড কোর্ট ও রেস্টুরেন্টে এসে একটু জিরিয়ে নেন। অনেকেই পুজোর বাজার শেষে খাওয়াদাওয়া করে বাড়ি ফিরছেন। বেঙ্গালুরুতে চাকরি করেন বহরমপুরের মধুপুরের বাসিন্দা বিমান দাস। পুজোর জন্য তিনদিন আগে বাড়ি ফিরেছেন। এদিন সপরিবারে বাজারে এসেছিলেন। বিমানবাবু বলেন, আগে ভাগে কিছু কেনা হয়নি। পরিবারের সবার জন্য এদিনই পোশাক কিনেছি। 
লালদিঘির বাসিন্দা অপর্ণা রায় সেন আগেই বাড়ির সবার জন্য শাড়ি, জামাপ্যান্ট ও অন্য পোশাক কিনে রেখেছেন। তিনি বলেন, এখন ঘর সাজানোর কয়েকটি জিনিস কিনতে বাজারে এলাম। এছাড়া, আমার দু’টি জিন্স অলটার করতে দেওয়া ছিল। সেগুলিও দোকান থেকে নিয়ে যাব।
বহরমপুরের মেহদিপুরের বাসিন্দা নিরুপম হালদার বলেন, কয়েকদিন ধরে শপিং মলে ভালো ভিড় হচ্ছে। দুপুরেই বাজারে এসেছি। বাজারের সরু রাস্তায় কিছুতেই বাইক চালানো যাচ্ছে না। বাইক পার্ক করে হেঁটে হেঁটে বাজার ঘুরে কেনাকাটা সারলাম। -নিজস্ব চিত্র