Bartaman Logo
১০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দলের মহিলা নেত্রীর মুখে ঘুসি, অশালীন ভাষায় আক্রমণ, তিনদিন কাটলেও বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে হয়নি এফআইআর, ঢিলেমি?

বিজেপি বিধায়ক শংকর সিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও ৭২ ঘণ্টা পরেও এফআইআর হয়নি। কেন ঘটছে এই ঢিলেমি? বিস্তারিত পড়ুন।

দলের মহিলা নেত্রীর মুখে ঘুসি, অশালীন ভাষায় আক্রমণ, তিনদিন কাটলেও বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে হয়নি এফআইআর, ঢিলেমি?
  • ১০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারে এসেই পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আইনের শাসন স্থাপনে পদস্থ কর্তাদের কড়া বার্তা দেন তিনি। সেই তালিকায় শীর্ষস্থান পেয়েছিল নারী সুরক্ষা। একইসঙ্গে, ‘দলমত নির্বিশেষে অভিযোগ গ্রহণ, এফআইআর রুজু করে তদন্ত চালাতে হবে’— এই বার্তাও শোনা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। পুলিশ মন্ত্রীর কড়া মনোভাবে নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন। 

Advertisement

কিন্তু, বাস্তব চিত্র অন্য কথা বলছে। ঠাকুরপুকুর থানা এলাকায় মধ্যরাতে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের হাতে নিগৃহীত হন পেশায় আইনজীবী এক মহিলা। একইসঙ্গে তিনি শাসকদলের পদাধিকারীও বটে। ৬ জুলাই সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নিগৃহীত মহিলা। তাঁর অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসাবে খোদ বেহালা পূর্বের বিজেপি বিধায়ক শংকর সিকদার ও তাঁর অন্যতম শাগরেদ বাদল দুয়ারি সহ ৫-৬ জন বিজেপি কর্মী-সমর্থকের নাম ছিল। ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় কেটে গেলেও সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো এফআইআর হয়নি। 
বেহালা পূর্ব বিধানসভার ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি আইনজীবী ডালিয়া ঘোষ বসু। তাঁর দাবি, রবিবার শীলপাড়ার কাছে আবাহন কমিউনিটি হলের সামনে একটি ঝামেলার খবর পেয়ে তিনি রাত ২টো ১০ মিনিট নাগাদ সেখানে যান। বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সেখানে মারপিট চলছিল বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, ঠাকুরপুকুর থানায় গোটা বিষয়টি জানাই। সেই অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। উল্লেখ্য, ১০০ ডায়ালে কোনো অভিযোগ এলে তা লালবাজারের কন্ট্রোল রুম ও ঘটনাস্থল যে থানা এলাকায়, সেখানে নথিবদ্ধ হয়। একইসঙ্গে, ১০০ ডায়ালে পাওয়া অভিযোগটি থানায় জেনারেল ডায়েরি (জিডি) হিসাবে নথিবদ্ধ করাও বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, লিখিত অভিযোগ পরে পেলেও ওই মহিলা যে নিগৃহীত হয়েছিলেন, সে বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিল স্থানীয় থানা। অভিযোগকারিণীর দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির থাকাকালীন সেখানে উপস্থিত হন স্থানীয় বিধায়ক। তাঁদের সামনেই তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা, মারধর, মুখে ঘুসি ও অশালীন ভাষা প্রয়োগ করা হয়। 
পুরানো এফআইআর ঘাঁটলে দেখা যাবে, ঠাকুরপুকুর থানায় সাম্প্রতিক অতীতে বহু মারপিট, নিগ্রহের অভিযোগ জমা পড়েছে। সবক্ষেত্রেই অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রাথমিক তদন্ত সেরে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। কিন্তু, এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন? প্রাথমিক তদন্ত করতে পুলিশের ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে গেল? যদিও অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থল ছিল আবাহন কমিউনিটি হলের সামনে। ওই হলের সুরক্ষায় ১৫টিরও বেশি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সেই ফুটেজ যাচাই করলে ‘জল-দুধ’ সহজে আলাদা করতে পারতেন তদন্তকারীরা। তাহলে এফআইআর রুজু করতে ঢিলেমি কেন? প্রতিক্রিয়া জানতে কলকাতা পুলিশের সাউথ-ওয়েস্ট ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার ঈশানী পালকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন করা হয়। তিনি তা দেখলেও, কোনো উত্তর দেননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ