সংবাদদাতা, ডোমকল: প্রায় দেড় দশক আগে হয়েছিল নির্বাচন। তারপর নানান সময়ে রানিনগরের শেখপাড়া-নজরানা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা আর হয়নি। এমনকি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই নাটকীয়ভাবে তা ভেস্তে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার সেই সমবায় সমিতিতেই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করল প্রশাসন। রবিবার ছুটির দিনে কার্যত উৎসবের মেজাজে ভোট দিলেন সমবায় সমিতির সদস্যরা। আর তার ফলাফলে এবারে কার্যত পর্যদুস্ত হল তৃণমূল। ছ’টি আসনের মধ্যে তিনটিতে সিপিএম, দু’টিতে কংগ্রেস ও একটিতে তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থী জিতেছেন।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কার্তিকের পাড়ায় অবস্থিত ওই সমবায় সমিতিতে মোট ভোটার ৭৪৪ জন। ছ’টি আসনের এই নির্বাচনে একটি তফসিলি জাতি-উপজাতি এবং দু’টি মহিলা আসন সংরক্ষিত রয়েছে। প্রায় দেড় দশক পর ওই সমবায় সমিতিতে নির্বাচন হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। রবিবার কার্তিকেরপাড়া প্রাথমিক স্কুলে ভোটগ্রহণের সূচি ছিল। সেইমতো কয়েকদিনের জোরদার প্রচারের পর রবিবার সকাল থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। ভোটকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ।
বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূল সবপক্ষের তরফেই নির্দিষ্ট দূরত্বে শিবির খোলা হয়েছিল। এরপর প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে একে একে ভোট দেন সদস্যরা। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোটপর্ব শেষের আধ ঘণ্টা বাদে শুরু হয় গণনা। কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই গণনার কাজ শুরু করেন দপ্তরের আধিকারিকরা। এরপর ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ হয়। আর তাতেই দেখা গিয়েছে সিপিএম তিনটিতে, কংগ্রেস দু’টিতে ও একটিতে তৃণমূল জয়ী হয়েছে।
রানিনগরের সিপিএম প্রার্থী জামাল হোসেন বলেন, তৃণমূল জমানায় ওরা সমবায় নির্বাচন বিষয়টিই তুলে দিয়েছিল। এই সমবায় সমিতিতেও একাধিকবার ভোটের তোড়জোড় শুরু হওয়ার পরেও নানান ভাবে তা ভেস্তে দেওয়া হয়েছিল। তবে অবশেষে ভোট হল। মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন। আর তাতেই আমাদের সদস্যরা জয়ী হয়েছেন। রানিনগর ২ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মমতাজ বেগম হীরা বলেন, এ জয় আমাদের কর্মীদের জয়। রানিনগর ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেহবুব মুর্শিদ বলেন, মানুষ তাঁদের রায় দিয়েছেন। এত খারাপ পরিস্থিতির মাঝেও মানুষ আমাদের একটা আসনে জিতিয়েছেন। এভাবেই আমরা ফের ঘুরে দাঁড়াব।