নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আমেরিকা কেন বিশ্বের সর্বশক্তিমান? তিনটি অস্ত্রের কারণে। সামরিক শক্তি, প্রযুক্তিশক্তি এবং ডলারের শক্তি। আমেরিকার সামরিক বাহিনী এবং প্রযুক্তিকে পরাস্ত করার প্রয়াস চীন অথবা রাশিয়া চালালেও এখনও পর্যন্ত খুব বেশি সফল হয়নি। বিশ্ববাণিজ্যের সিংহভাগ লেনদেন হয় ডলারে। তাই ডলারের চাহিদা এবং মজুত করা সব দেশের কাছে অগ্রাধিকার। এই আবহে ব্রিকস সম্মেলনে ডলারের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রয়াস শুরু হয়েছে জোরালোভাবে। দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে কখনও ইরান এবং কখনও রাশিয়া প্রকাশ্যে ডলারের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্রিকস সম্মেলনের মূল বৈঠকে ও পরবর্তী যৌথ ঘোষণাপত্রে সুচারু কৌশলে ডলার শব্দের উচ্চারণ করা হয়নি। কিন্তু দু’দিন ধরে সম্মেলনে বারংবার বলা হয়েছে, নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ও পণ্য কেনা-বেচায় স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহার করার চেষ্টা করবে ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত রাষ্ট্রগুলি। অর্থাৎ টাকা, রুবল, ইউয়ান, জ্বালানির ক্ষেত্রে দিরহাম ইত্যাদি। এমনকি রবিবার সমাপ্ত হওয়া ব্রিকসের শেষদিনেও নরেন্দ্র মোদি, ভ্লাদিমির পুতিন এবং জি জিনপিং তাঁদের বিবৃতিতে জোর দিয়েছেন স্থানীয় মুদ্রার বেশি করে ব্যবহারের উপর।
মোদি বলেছেন, বেশি করে আমরা ব্রিকসের মধ্যে বাণিজ্যে যদি স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন করি তাহলে, বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেনের ব্যয়ভারও কমে যাবে। আর এটাই হবে বাস্তবোচিত পদক্ষেপ। পুতিন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মুদ্রাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা বিশ্বজুড়ে পারস্পরিক আস্থায় আঘাত করছে। ব্রিকসকে তিনি বলেছেন, ঔপনিবেশিক মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ব্রিকসের আর্থিক সংস্থা ও ব্যাংককে শক্তিশালী করতে হবে। জি জিনপিং রবিবার বলেছেন, ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের মাধ্যমে আরও বেশি করে সব দেশীয় মুদ্রাকে যদি সম্প্রসারিত করা যায়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যের বদল ঘটানো সম্ভব। আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাঙ্কের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তারা স্থানীয় মুদ্রাগুলিকে সমানভাবে গুরুত্ব দেয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট সরাসরি বলেছেন, ডলারের আগ্রাসন কমাতে পারবে একমাত্র ব্রিকসের নিজস্ব মুদ্রা।
ব্রিকস একমাত্র রাষ্ট্রগোষ্ঠী যারা পরোক্ষভাবে ডলারের শক্তিহ্রাসের পথে হাঁটছে। সেই কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রবল ক্ষুব্ধ। যদি ব্রিকসের সদস্য দেশ এবং সম্প্রসারিত রাষ্ট্রগুলি সকলেই একজোট হয়ে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনে ডলারের বিনিময় বন্ধ করে দেয়, তাহলে কোনো সন্দেহ নেই, ডলারের চাহিদা এক ধাক্কায় কমে আসবে। প্রত্যেকটি স্থানীয় মুদ্রার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাবে। অন্তত টাকার রকেটের গতিতে পতনের প্রতিরোধে দিশাহারা মোদি চান ডলারের মূল্যহ্রাস। কারণ, ডলারের বিনিময়ে টাকার দাম এবার সেঞ্চুরির মুখে!