নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তোলাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার ৫৭ দিনের মাথায় বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে ১৭৩০ পাতার চার্জশিট পেশ করল পুলিশ। বুধবার বারাসত আদালতের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক সোমনাথ ভট্টাচার্যের এজলাসে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ চার্জশিট জমা দেয়। রাজ্যে পালাবদলের পর তোলাবাজির অভিযোগে কোনো তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এই প্রথম চার্জশিট পেশ করা হল। একই দিনে সব্যসাচী দত্তের পক্ষে জামিনের আবেদন জানান কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বুধবার রাত ৮টা নাগাদ বিচারক সব্যসাচী দত্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে ১২ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। তবে তাঁর সহযোগী বিদ্যুৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে।
গত ৮ জুন তোলাবাজির অভিযোগে সব্যসাচী দত্তকে গ্রেপ্তার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। আদালতে তোলার পর তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১২ নম্বর ধারা যুক্ত করা হয়। সেই সূত্রেই মামলাটি বারাসত আদালতের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের আদালতে স্থানান্তরিত হয়। তদন্ত চলাকালীন সব্যসাচীর একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সিজ করে পুলিশ। পাশাপাশি তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর লকার থেকে সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়। পুলিশি হেপাজতে থাকার সময় নদীয়ার তেহট্টে এক বান্ধবীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কেজি সোনা উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। সম্প্রতি আদালতে উদ্ধার হওয়া সোনা বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানায় সরকারপক্ষ। বর্তমানে অন্য একটি মামলায়ও এই থানার পুলিশি হেপাজতেই রয়েছেন সব্যসাচী।
চার্জশিটে তোলাবাজির পাশাপাশি অভিযোগকারীদের ভয় দেখানো, প্রভাব খাটানোসহ একাধিক অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের এক প্রবীণের বাড়ি দখল করে ৪৮ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে সব্যসাচীর বিরুদ্ধে। জামিনের সওয়ালে সব্যসাচীর আইনজীবীর দাবি ছিল, চার্জশিট ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে। তদন্ত কার্যত শেষ। গত দু’মাস ধরে অভিযুক্ত হেপাজতে রয়েছেন। তাই তাঁকে যেকোনো শর্তে জামিন দেওয়া যেতে পারে। পালটা বিশেষ সরকারি আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তদন্ত শেষ হলেও বিচারপর্ব এখনও শুরু হয়নি। ইতিমধ্যে তোলাবাজির শিকার একাধিক ব্যক্তি হুমকির মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তকে জামিন দিলে তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, সমস্ত দিক বিবেচনা করেই আদালত সব্যসাচী দত্তের জামিনের আবেদন খারিজ করেছে। আগামী ১৭ আগস্ট তাঁকে ফের বারাসত আদালতে তোলা হবে। সেদিন তদন্তকারীদের জমা দেওয়া নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখবেন বিচারক। এই মামলায় মোট ৪১ জন সাক্ষীকে নিয়ে বিচারপর্ব শুরু হওয়ার কথা।