


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদে একের পর এক মুসলিম পাড়ায় নাম বাতিল হওয়ায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একটি বুথের কিছু কিছু পার্টে শুধুমাত্র সংখ্যালঘু মহিলাদের নাম বাদ দিয়ে দেওয়ার পিছনে কমিশনের ষড়যন্ত্র দেখছে শাসকদল। হরিহরপাড়ার খিদিরপুর নতুনপাড়ার ১৪৫ পার্ট নম্বরের ১৭৬ জন বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৯৬ জনের নাম নেই। যারা সকলেই মহিলা।
কমিশন পরিকল্পিতভাবে এক একটি বিধানসভায় কত নাম বাদ দিয়েছে, সেই তালিকা প্রকাশ করেনি। জেলাজুড়ে তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে বিচারাধীন ভোটাররা নিজেদের এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করে নাম দেখছেন। নিজের নাম দেখার পাশাপাশি নিজের এলাকার বুথ এবং পার্ট নম্বরে ভোটার তালিকা দেখতে পাচ্ছেন তাঁরা। সেখানে জীবিত এবং সমস্ত নথিপত্র থাকা ভোটারদের নাম মৃত বলে ডিলিট করে দেওয়া হচ্ছে। যা নিয়ে চরম উদ্বেগে ভোটাররা। এলাকার বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে দেখে দেখে শুধুমাত্র মহিলাদের নাম বাদ দেওয়ায় কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন মহিলারা।
তাঁদের দাবি, বছর বছর আমরা এখানে ভোট দিচ্ছি। ভোটার কার্ড আছে, আধার কার্ড আছে। সমস্ত নথিপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা কোথায় যাব। নির্বাচন কমিশন কীসের ভিত্তিতে নাম বাদ দিল। সেটা জানতে পারছি না।
এদিন হরিহরপাড়ার খিদিরপুর অঞ্চলে ভোট প্রচারে যান তৃণমূল প্রার্থী নিয়ামত শেখ। নিজেদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে প্রাক্তন বিধায়ককে পেয়ে কেঁদে ফেলেন মহিলারা। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিদায়ী বিধায়ক নিয়ামত। তিনি বলেন, মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ছেলেখেলা চলছে। বিজেপির এজেন্ট হয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পরিকল্পনা সংখ্যালঘু এবং বিশেষ করে মহিলা ভোট বাদ দাও। তার কারণ আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের হাতে অর্থ দেওয়ার জন্য একের পর এক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করেছে সেই অর্থ পেয়ে মহিলারা খুশি মহিলাদের অধিকাংশ ভোট শাসকদলের পক্ষেই থাকে। তাই বিজেপির পরামর্শে মহিলাদের নাম কাটানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে কমিশন। তবে এতে কোনো লাভ হবে না। সর্বত্র মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। এদিন আমি প্রচারে গিয়ে ওই এলাকায় মানুষের সঙ্গে কথা বললাম। মহিলারা খুবই আতঙ্কিত। কী করে ভোটার তালিকায় নাম তুলবে, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে।
হরিহরপাড়ার বিজেপি প্রার্থী তন্ময় বিশ্বাস বলেন, নিজের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে বিধায়কের। ভোটে হেরে যাবে বুঝে ভুলভাল বকছে। যাদের নথি পেয়েছে কমিশন, তারাই প্রকৃত ভোটার। এসআইআর করার উদ্দেশ্য এই অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। মুর্শিদাবাদে বহু অবৈধ ভোটার আছে। কমিশন তাদের নাম বাদ দিয়েছে। আর এখন তো কমিশন নয়, বিচারকরা নথি যাচাই করে তবেই ভোটার তালিকায় নাম তুলছে। সুতরাং ভুল হওয়ার জায়গা নেই।
প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি মহাফুজ আলম ডালিম বলেন, আমরা চাই বৈধ একজন ভোটারের নামও যেন বাদ না যায়। কিন্তু প্রকৃত কতজন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে তা কমিশন প্রকাশ্যে আনছে না। এখন দেখতে পাচ্ছি বহু এলাকায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাচ্ছে। জেলাজুড়ে একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
হরিহরপাড়া ব্লক তৃণমূলের সভাপতি জসিমউদ্দিন শেখ বলেন, প্রতিবার নির্বাচনে বিজেপি মানুষের কাছে ঘাড় ধাক্কা খায়। তাই এবার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে। কিন্তু এই সাধারণ মানুষ বিজেপির প্রার্থীদের উপযুক্ত জবাব দেবে। নির্বাচন কমিশন যতই পরিকল্পনা করে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুক না কেন, ভোটে আমাদেরই জয় হবে।