Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৮ থানায় বসছে ৯৬ অত্যাধুনিক ক্যামেরা

কোথাও কোনও অপরাধ ঘটলে বা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রথমেই খোঁজ পড়ে সেই এলাকার সিসি ক্যামেরা ফুটেজের। ইতিপূর্বে বহু অপরাধের কিনারা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সিসি ক্যামেরা।

৮ থানায় বসছে ৯৬ অত্যাধুনিক ক্যামেরা
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

স্বার্ণিক দাস, কলকাতা:

Advertisement

কোথাও কোনও অপরাধ ঘটলে বা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রথমেই খোঁজ পড়ে সেই এলাকার সিসি ক্যামেরা ফুটেজের। ইতিপূর্বে বহু অপরাধের কিনারা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সিসি ক্যামেরা। কিন্তু শহরের খোদ থানা চত্বরই পড়ে রয়েছে সিসিটিভির নজরদারির বাইরে। কোথাও থানার মালখানার বাইরে ক্যামেরা নেই। কোথাও আবার থানার প্রবেশদ্বারে নেই কোনও সিসি ক্যামেরা। তাহলে থানায় কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা ঘটলে কী হবে? এই প্রশ্নে লালবাজারের কর্তাদের চিন্তা ক্রমশ বাড়ছে। 
খাস কলকাতার এমন আটটি থানা চিহ্নিত করেছেন উচ্চপদস্থ কর্তারা, যেখানে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সিসি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় নেই। তাই কলকাতা পুলিসের দক্ষিণ, পূর্ব ও বন্দর ডিভিশনে চিহ্নিত এই আট থানায় মোট ৯৬টি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজার। প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচে এই অত্যাধুনিক ক্যামেরাগুলি বসানো হবে। এগুলিতে ছবি, ভিডিওর পাশাপাশি, শব্দও রেকর্ড হবে। সেই মতো ইতিমধ্যে দরপত্র ডাকা হয়েছে কলকাতা পুলিসের তরফে। সেখানে বলা হয়েছে, গুরুত্ব সহকারে পুজোর আগেই ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ করতে হবে।
লালবাজার সূত্রে খবর, সাউথ ডিভিশনের যে চারটি থানাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলি আলিপুর, ভবানীপুর, চেতলা ও কালীঘাট। ইস্ট ডিভিশনের আনন্দপুর ও পূর্ব যাদবপুর থানাতেও ১২টি করে ‘অরক্ষিত’ অংশ চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিস সূত্রে খবর, এই দুই থানা এলাকায় ছোটছোট বেশ কয়েকটি এলাকা রয়েছে, যেখানে আইন-শৃঙ্খলার কোনও সমস্যা হলে আক্রোশ এসে পড়ে থানার উপরে। তাই থানার ভিতরে ৮টি জায়গায় ও বাইরে চারটি স্থানে অডিও-ভিডিও কভারেজের জন্য সিসি ক্যামেরা ইনস্টলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজার। বন্দর (পোর্ট) ডিভিশনের গার্ডেনরিচ ও পশ্চিম বন্দর থানার ক্ষেত্রেও ১২টি করে অত্যাধুনিক ক্যামেরা বসছে। এই এলাকায় থানার বাইরের অংশে নজরদারির জন্য অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছে লালবাজার। সম্প্রতি প্রগতি ময়দান থানার বাইরে থেকে অফিসার ইন চার্জের সরকারি গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয় এক যুবক। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে থানার বাইরে চত্বরেও নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো রাখতে তৎপর হয়েছে লালবাজার। 
কলকাতা পুলিসের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘থানার ভিতরে ও বাইরের জন্য পাঁচ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তবে ইনডোর ক্যামেরায় (ডোম) প্রায় ৩০ মিটার ও ২৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত কভারেজ পাওয়া যাবে। আউটসাইড ক্যামেরায় (বুলেট) ২০ মিটার পর্যন্ত এলাকা নির্দিষ্টভাবে নজরদারির আওতাভুক্ত হবে। রোডসাইড ক্যামেরাগুলি ৪ মেগাপিক্সেলের। তবে এই ক্যামেরাগুলির ফোকাল লেংথ পরিবর্তনযোগ্য। প্রতিটি ক্যামেরার ১৬ টেরাবাইট (টিবি) পর্যন্ত ফুটেজ গচ্ছিত রাখতে পারবে থানাগুলি।’ এই তথ্য পরবর্তী সময়ে তদন্তের ক্ষেত্রে বিশেষ সাহায্য করবে বলে আশাবাদী পুলিসকর্তারা।

সম্পর্কিত সংবাদ