মুম্বই: লড়কি বহিন যোজনা। মহারাষ্ট্রে ভোট বৈতরণী পার হতে এই প্রকল্পই ছিল বিজেপি জোটের অন্যতম হাতিয়ার। তাতে কাজও হয়েছে। দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্ব গঠিত হয়েছে মহাযুতি সরকার। তারপর দু’বছরের মধ্যে মহিলাদের ওই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিপুল অঙ্কের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ। তথ্য বলছে, লড়কি বহেন যোজনার অধীনে ৯২ লক্ষ অযোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বিপুল অর্থ। টাকার অংকে যা প্রায় ৯ হাজার ৬০৫ কোটি। গত দু’বছর ধরে এই টাকা দেওয়া হয়েছে। তথ্য জানার অধিকার আইনে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্র এসংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সরকারি সূত্রে খবর, ২০২৪ সালের জুন মাসে এই প্রকল্পের সূচনা হয়। বছরে আড়াই লক্ষ টাকার কম আয়ের পরিবারের মহিলাদের মাসে দেড় হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু করে রাজ্য।
প্রশাসন সূত্রে খবর, আবেদনপত্র খতিয়ে দেখার সময়ই বহু উপভোক্তার নাম বাদ গিয়েছে। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৯২ লক্ষ প্রাপকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬২ লক্ষ কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ১৬ লক্ষ উপভোক্তার ক্ষেত্রে বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার বেশি। আরও প্রায় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার মহিলা সঞ্জয় গান্ধী নিরাধার অনুধান যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে তাঁরাও এই প্রকল্পে অযোগ্য। এছাড়া, পরিবারের অন্য কোনো সদস্য ‘লড়কি বহিন’-এ নাম নথিভুক্ত করায় আড়াই লক্ষ মহিলার নাম কাটা গিয়েছে। এই পরিসংখ্যান নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, অযোগ্য উপভোক্তাদের জন্য সরকারের কোষাগার থেকে ৯ হাজার ৬০০ কোটির বেশি টাকা বেরিয়ে গিয়েছে। সেই টাকা কি ফেরত নেবে প্রশাসন? যদিও রাজ্যের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কোনো সরকারি আধিকারিক বা তাঁর পরিবার যদি অযোগ্যদের তালিকায় থাকেন, শুধু তাঁদের থেকে টাকা ফেরত নেওয়া হবে।