Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬

দেশের ৯ কোটি তরুণ কর্মহীন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ থেকে দূরে: নীতি আয়োগ, যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান মাত্র ৮.২৫ শতাংশ স্নাতকের

কিছুদিন আগেই জেন-জি বিক্ষোভের সাক্ষী থেকেছে দেশ। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সার্বিক হতাশা এই আন্দোলনের একটা বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দেশের ৯ কোটি তরুণ কর্মহীন, শিক্ষা  ও প্রশিক্ষণ থেকে দূরে: নীতি আয়োগ, যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান মাত্র ৮.২৫ শতাংশ স্নাতকের
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: কিছুদিন আগেই জেন-জি বিক্ষোভের সাক্ষী থেকেছে দেশ। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সার্বিক হতাশা এই আন্দোলনের একটা বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এরইমধ্যে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের বেহাল দশা সামনে এল খোদ সরকারি রিপোর্টেই।  নীতি আয়োগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে ১৫ থেকে ২৯ বছরের প্রায় ৯ কোটি তরুণ-তরুণী পড়াশোনা করছে না, আবার কোনো কাজের সঙ্গেও যুক্ত নয়। এমনকী তারা কোনো প্রশিক্ষণও নিচ্ছে না। কার্যত হাত-পা গুটিয়ে ‘কর্মহীন’ জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, একদিকে উপার্জনের অভাব, অন্যদিকে ছোটো থেকে শিক্ষায় খরচের কারণে ৮ কোটি ৭০ লক্ষ তরুণ নিজেদের ক্রমশ গুটিয়ে ফেলছেন। অর্থাভাবের কারণে নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা। 

Advertisement

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ব্যবহারিক শিক্ষা এবং শিল্প সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের সীমিত সুযোগ শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ‘কর্মহীন’ তরুণ-তরুণীদের ভরতুকিতে প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, কাজের চাহিদা রয়েছে এমন ক্ষেত্র এবং স্বনির্ভর কাজের সঙ্গে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিকে যুক্ত করা উচিত।  
ওই রিপোর্ট অনুসারে, শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না দেশের সিংহভাগ তরুণ-তরুণী। স্নাতকদের মাত্র ৮.২৫ শতাংশ তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজে নিযুক্ত। স্নাতক স্তরে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লক্ষ পড়ুয়া। তাদের মধ্যে এক কোটিরও বিএ কোর্সে। বিএ, বিএসসি এবং বিকম—এই তিনটি সাধারণ ডিগ্রি কোর্সে মিলিয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি। রিপোর্ট বলছে, এই কোর্সগুলির সঙ্গে সরাসরি চাকরির যোগ প্রায় নেই। প্রাথমিক স্তরের অনেক চাকরির ক্ষেত্রেও ট্যালি বা অফিস অ্যাপ্লিকেশনের মতো অতিরিক্ত কর্মক্ষেত্র-ভিত্তিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়। যা সিলেবাসে পড়ানো হয় না।  ফলে ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট থাকলেও তা সবসময় কর্মসংস্থানের যোগ্যতা তৈরি করছে না।  
এই রিপোর্ট নিয়ে মোদি সরকারকে একহাত নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা। তিনি বলেছেন, ‘এটাই বিজেপি আমলের সবচেয়ে তিক্ত সত্য। লক্ষ লক্ষ সরকারি পদ শূন্য। এদিকে ৮ কোটি ৭০ লক্ষ তরুণ বেকার। শিক্ষার কথা তো বাদই দিন—তারা কোনো প্রশিক্ষণও পাচ্ছে না!’  তাঁর কটাক্ষ, স্কিল ইন্ডিয়ার মতো বড়ো বড়ো ইভেন্টের নামে প্রচারের কাজে কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তরুণদের কাছে ট্রেনিং কোর্সে ভরতি হওয়ার মতো অর্থের সংস্থান নেই। এভাবে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি উপযুক্ত পর্যাপ্ত শিক্ষা ও রোজগার থেকে বঞ্চিত থাকলে ‘বিকশিত ভারতে’র স্বপ্ন জুমলা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। অন্তঃসারশূন্য স্লোগান নয়, পাকা চাকরি ও সস্তায় শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করা দরকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ