থানে: কেউ কেউ রাতের খাবার খেয়ে শুতে যাওয়ার তোড়জোড় করছেন তো কেউ আবার সবেমাত্র একটি রুটি মুখে তুলেছেন। তখনই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে মহারাষ্ট্রের পাঁচতলা বহুতল। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০।
থানে: কেউ কেউ রাতের খাবার খেয়ে শুতে যাওয়ার তোড়জোড় করছেন তো কেউ আবার সবেমাত্র একটি রুটি মুখে তুলেছেন। তখনই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে মহারাষ্ট্রের পাঁচতলা বহুতল। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০।
থানের ভিওয়ান্ডিতে ভূপতিত ‘বিপজ্জনক’ ওই বাড়ি। ইতিমধ্যেই ৯টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্তত তিনজন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। উদ্ধারকাজ চলছে। তবে যেভাবে বহুতলের একটি অংশ ভেঙে পড়েছে তাতে আরও বেশ কয়েকজন তার নীচে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে মুম্বইয়ে ফের বহুতল ভাঙার ঘটনায় আরও একবার প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করল।
বালাজি নগরের কোহিনুর বিল্ডিংকে আগেই ভিওয়ান্ডি নিজাম শহর পুরনিগম ‘বিপজ্জনক’ বলে ঘোষণা করেছিল। ৫ জুন বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য আবাসিকদের নোটিস দেওয়া হয়। বাড়ির জল ও বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করা হয়। তবে তা সত্ত্বেও বাড়ির আবাসিকরা ওই চত্বর ছেড়ে যাননি। উলটে তারা স্থানীয় ঠিকাদারকে ধরে ওই বহুতল মেরামত শুরু করেছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। চলতি বর্ষার মরশুমে ভারী বৃষ্টির জেরে ওই বহুতল নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করেই সেটি ভেঙে পড়ে।
রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা মন্ত্রী গিরিশ মহাজন বলেন, দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলছে। ওই বহুতলে ৪৮টি ঘর রয়েছে। প্রত্যেক তলায় ১২টি করে ফ্ল্যাট। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা নাগাদ হঠাৎ করেই বহুতলে কড়মড় করে শব্দ হতে থাকে। পড়শিদের অনেকেই তড়িঘড়ি বহুতল থেকে আবাসিকদের উদ্ধারের কাজ শুরু করেন। তবে বি উইংয়ের অনেকে তখনও ঘরের ভিতর ছিলেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বহুতলের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়তে থাকে। মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা করে সাহায্য ঘোষণা করেছে সরকার।
এদিকে ওই বহুতলের বাইরে ছিল বসতি। সেইসব ছোটোছোটো বাড়ির উপরই ভেঙে পড়ে বহুতলের বিভিন্ন অংশ। তাঁদের অনেকেই সব খুইয়ে রাস্তার উপরই আশ্রয় খুঁজছেন। বৃহস্পতিবার সারারাতের পর শুক্রবারও তাঁদের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই মেলেনি। ফুটপাতই এখন তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা। এদিকে বাড়ি ভাঙার সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা মনে করে একদিন পরও শিউরে উঠছেন মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরা অনেকে। এক আবাসিকের অভিযোগ, ‘বাড়ির ভিতর এখনও অনেকে রয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের তরফে প্রথমদিকে কাউকেউ দেখা যায়নি।