Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ধর্ষণ-খুনের ৯ দিন পর বারুইপুরে অকুস্থলে ফরেনসিক মিলল অন্তর্বাস, চকোলেটের মোড়ক

ধর্ষণ-খুনের ৯ দিন পর বারুইপুরে অকুস্থলে ফরেনসিক মিলল অন্তর্বাস, চকোলেটের মোড়ক
  • ১৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুরে নাবালিকার গণধর্ষণ-খুনের পর কেটে গিয়েছে ন’দিন। এবার টনক নড়ল ফরেনসিক দলের! মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করলেন তাঁরা। অকুস্থলে ঘটনার পুনর্নির্মাণ হল ধৃত আনন্দ সরদার, দিবাকর সরদার এবং কবির মোল্লাকে নিয়ে। দিনের আলোয়। আর অভিযুক্তরা সঠিক স্থান দেখিয়ে দিতেই ফরেনসিক দলের সদস্যরা উদ্ধার করলেন নাবালিকার অন্তর্বাস, চকোলেটের মোড়ক, গেঞ্জি, ড্রাইভিং লাইসেন্স। অবশেষে। এই চকোলেট দেখিয়েই কি নাবালিকাকে এখানে নিয়ে এসেছিল প্রভাস? খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু থাকছে প্রশ্নও—ক্রাইম সিন থেকে এতদিন পর কেন এত সামগ্রী সংগ্রহ করা হল? বারুইপুরের ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। ছত্রে ছত্রে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সাধারণ মানুষও। এবার সেই গাফিলতির তালিকায় কি তবে নাম জুড়ল ফরেনসিক দলের? কেন এত দেরি করে নমুনা নেওয়া হল? শুরু হয়েছে বিতর্ক।

Advertisement

এদিন সকালে তিন অভিযুক্তকে নিয়ে সূর্যপুরহাট স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনের ধারের ঝোপ-জঙ্গলে যান ফরেনসিক এবং সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা। সঙ্গে ছিলেন থানা ও পুলিশ জেলার শীর্ষস্তরের আধিকারিকরাও। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত আনন্দ সরদারের ঢাকা মুখ খুলে দেওয়া হয়। কোথায় নির্যাতন চালানো হয়েছিল, সেই স্থান দেখিয়ে দিতে বলে পুলিশ। আনন্দ একটি কলাবাগানের ঝোপের দিকে ইশারা করে। এরপর বিশেষজ্ঞরা সেখানে বিভিন্ন গাছের পাতার নীচে, ঝোপঝাড় থেকে একটি মদের বোতল, দু’টি জলের বোতল, চুল, গেঞ্জি, প্লাস্টিকের গ্লাস প্রভৃতি উদ্ধার করে। যে অন্তর্বাস পাওয়া গিয়েছে, সেটি ওই নাবালিকার কি না, তা পরীক্ষার পরই অবশ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে। উদ্ধার হওয়া গেঞ্জি ও অন্যান্য কাপড় কাদের, তার জন্য আরও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পরে যে পুকুর থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেখানেও একবার ঘুরে যান বিশেষজ্ঞরা। তবে এত দেরিতে নমুনা কেন নেওয়া হল, তার উত্তর অবশ্য পাওয়া যায়নি কোনো পক্ষের থেকেই। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার অরবিন্দ আনন্দকে ফোন করা হলে, তিনি ধরেননি।
কিন্তু আরও যে গুরুতর প্রশ্নটি উঠছে তা হল, ন’দিন পর অকুস্থলে যাওয়ার পর আদৌ কি তথ্য-প্রমাণ পাওয়া সম্ভব? কারণ গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। তাতে পোশাক ও অন্যান্য যেসব সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, তার থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মুছে যাওয়ারই প্রবল সম্ভাবনা। এতে তদন্তের উপর প্রভাব পড়বে না তো? আশঙ্কা থাকছেই। এর আগে যেখানে এই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে এনকাউন্টার করা হয়েছিল, সেখানে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। তাহলে নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার নমুনা সংগ্রহ করতে এত সময় লেগে গেল কেন?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ