নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজোর এখনও আড়াই মাস বাকি। তার আগে কলকাতায় বাজেয়াপ্ত হল বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ বাজি। জোড়াসাঁকো থানা এলাকার তারাচাঁদ দত্ত স্ট্রিটে একটি পণ্যবাহী গাড়ি থেকে ৮০০ কেজির বেশি নিষিদ্ধ চকোলেট বোমা ও শেল উদ্ধার করল লালবাজার। গোয়েন্দা বিভাগের একটি বিশেষ অভিযানে বিপুল নিষিদ্ধ বাজি পাকড়াও করা হয়েছে। এই বাজি পাচার করা হচ্ছিল বলে লালবাজার সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক জেরায় পুলিশ জেনেছে, চম্পাহাটি থেকে আসছিল বাজি। কিন্তু, ভুয়ো কোম্পানির চালান তৈরি করে বাজি অন্যত্র পাচার হচ্ছিল। পুজোর এতদিন আগে কেন চকোলেট বোমা পাচার হচ্ছিল? রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে লালবাজার।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে বাজি পাচারের খবর পায় লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখা। সেই মতো সোমবার সকালে জোড়াসাঁকো থানার ফোর্স সঙ্গে নিয়ে তারাচাঁদ দত্ত স্ট্রিট ও নবাব বাদারুদ্দিন স্ট্রিটের সংযোগস্থলে অভিযান চালান গোয়েন্দারা। সোর্স মারফত পাওয়া খবরে একটি পণ্যবাহী গাড়িকে আটকায় পুলিশ। সেটির ডালা খুলতেই উদ্ধার হয় ১৩ বস্তা চকোলেট বোমা। এছাড়াও, শেল ও কিছু আতশবাজি পাওয়া যায়। গাড়ির চালক ও তার সহযোগীকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন গোয়েন্দারা। তারা ‘কাঞ্চন ট্রেডিং’ নামে একটি কোম্পানির নামে ইস্যু করা দু’টি চালান দেখায়। পণ্যবাহী গাড়ি সমেত চালক ও সহযোগীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানেই চালান দু’টি যাচাই করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, সবটাই ভুয়ো। কাঞ্চন ট্রেডিং নামে কোনো কোম্পানিরই হদিশ পাননি তদন্তকারীরা। দীর্ঘ জেরার পর অভিযুক্তরা জানিয়েছে, চম্পাহাটির এক বাজি ব্যবসায়ী বিমল নস্করের থেকে বিপুল পরিমাণ বাজি নিয়ে যাচ্ছিল তারা। বাজি পাচারের অভিযোগে গাড়ি চালক লাল্টু কর্মকার (৩৮) ও চালকের সহযোগী প্রীতম বিশ্বাসকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বাজি বিক্রেতা বিমল বিশ্বাসকেও সেই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।