Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ওড়িশায় নির্যাতনের শিকার মুর্শিদাবাদের ৮ শ্রমিক, দু’হাত তুলে ‘জয় শ্রীরাম’ বলিয়ে রাতভর মারধর

‘দু’হাত তুলে জয় শ্রীরাম বল!’ ঘুম থেকে তুলে লাঠি দিয়ে পেটাতে পেটাতে বারবার ওই একটা নির্দেশই দেওয়া হচ্ছিল। তবে, হাত তুলে শ্রীরামের নাম নেওয়ার পরেও ছাড় মেলেনি।

ওড়িশায় নির্যাতনের শিকার মুর্শিদাবাদের ৮ শ্রমিক, দু’হাত তুলে ‘জয় শ্রীরাম’ বলিয়ে রাতভর মারধর
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ‘দু’হাত তুলে জয় শ্রীরাম বল!’ ঘুম থেকে তুলে লাঠি দিয়ে পেটাতে পেটাতে বারবার ওই একটা নির্দেশই দেওয়া হচ্ছিল। তবে, হাত তুলে শ্রীরামের নাম নেওয়ার পরেও ছাড় মেলেনি। বাঙালি শ্রমিকদের রাতভর অত্যাচার করা হয়। তারপর গোরুচুরির অভিযোগ এনে তাঁদের পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিস তাঁদের থানায় নিয়ে গিয়ে ফের মারধর করে। তারপর সাদা কাগজে সই করিয়ে ছেড়ে দেয়। ওড়িশায় থাকলে বিপদ বাড়বে বুঝে সাতজন শ্রমিক মুর্শিদাবাদে পালিয়ে আসেন। একজন আসার মতো অবস্থায় নেই। তিনি ভর্তি রয়েছেন ভুবনেশ্বরের হাসপাতালে। বাকি সাতজনের মধ্যে দু’জন ভগবানগোলায়, একজন রানিতলায়, দু’জন লালগোলায় ও দু’জন ফরাক্কার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। 

Advertisement

ভগবানগোলার আব্দুল আলিম কাজের খোঁজে গত ২৪ আগস্ট মুর্শিদাবাদ থেকে ওড়িশায় গিয়েছিলেন। কাজ তো জোটেইনি, উল্টে চরম অত্যাচারিত হয়ে ফিরে এসেছেন। তিনি এখন লালবাগ মহকুমা হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বারবার শিউরে উঠছিলেন। আলিম বলেন, ভুবনেশ্বর লাগোয়া একটি এলাকায় পৌঁছে খাওয়া দাওয়া করে সবাই শুয়েছিলাম। সেদিন রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ আমাদের ঘুম থেকে তোলা হয়।  চোখ খুলতেই দেখি লাঠি, বাঁশ নিয়ে ওখানকার বেশ কয়েকজন আমাদের ঘরে হাজির। আমরা ওদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলছিলাম। তাতেই ওরা আমাদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করে। আমরা নাগরিকের প্রমাণপত্র দেখাই। কিন্তু, ওসব ওরা মানতে চায়নি। এমনকী বাড়িতে ফোন করতে গেলে মোবাইল এবং কাগজপত্র পর্যন্ত কেড়ে নেয়। তারপর রাতভর আমাদের মারধর করে। একজনের মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। হাতে পায়ে ধরলেও রেহাই দেয়নি। আমাদের বারবার হাত তুলে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হচ্ছিল। উপায় না দেখে, ‘জয় শ্রীরাম’ও বলেছি। তারপরেও রেহাই পাইনি। ভোর পর্যন্ত আমাদের উপর অমানসিক নির্যাতন চলে। তারপর সকালে পুলিস ডেকে বলা হয়, আমরা নাকি গোরু চুরি করেছি। এরপর শ্রী লিঙ্গরাজ থানার পুলিস তাঁদের নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে গিয়েও আর এক দফা নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। আব্দুল আলিম বলেন, বড়বাবু থানায় নিয়ে গিয়ে মারতে থাকেন। আমাদের বলেন, ‘তোরা বাঙালি, আগে ওড়িশা থেকে বেরিয়ে যা’। এরপর সাদা কাগজে সই করিয়ে আমাদের ছেড়ে দেয়। একটু বেশি রোজগারের আশায় ওড়িশায় গিয়েছিলাম। কিন্তু এরকম ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হবে তা কল্পনাও করতে পারিনি। 
ভগবানগোলা তৃণমূল বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকার বলেন, যাঁরা যে কাজে পারদর্শী তাঁরা বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে সেই কাজ করছেন। ভিনরাজ্য থেকেও বহু শ্রমিক আমাদের বাংলায় এসে কাজ করছেন। কিন্তু, বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের উপর লাগামছাড়া অত্যাচার করা হচ্ছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ