Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁথি ও এগরার ৮ পড়ুয়া মেধাতালিকায়

এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় কাঁথি ও এগরা মহকুমায় বিভিন্ন স্কুলের আটজন ছাত্রছাত্রী মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৯৫ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান লাভ করে চমক দিয়েছে এগরার রামকৃষ্ণ শিক্ষা মন্দিরের ছাত্র অঙ্কনকুমার জানা।

কাঁথি ও এগরার ৮ পড়ুয়া মেধাতালিকায়
  • ৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় কাঁথি ও এগরা মহকুমায় বিভিন্ন স্কুলের আটজন ছাত্রছাত্রী মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৯৫ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান লাভ করে চমক দিয়েছে এগরার রামকৃষ্ণ শিক্ষা মন্দিরের ছাত্র অঙ্কনকুমার জানা। ওই স্কুলেরই আরও দু’জন ছাত্রী অভিষিক্তা রায় ও অনুষ্কা ভক্ত মেধাতালিকায় যথাক্রমে সপ্তম ও নবম স্থান দখল করেছে। একই স্কুল থেকে তিনজন মেধাতালিকায় স্থান করে নেওয়ায় শিক্ষামন্দির হাইস্কুলের শিক্ষকশিক্ষিকা ও অভিভাবকদের মধ্যে খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া মেধাতালিকায় চতুর্থ ও ষষ্ঠ স্থানাধিকারী যেমন রয়েছে, তেমনই তিনজন নবম স্থান দখল করেছে। 

Advertisement

মেধাবী অঙ্কন চায় ইঞ্জিনিয়ার হতে। তার বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের জাহালদা এলাকায়। বাবা বুদ্ধদেব জানা স্থানীয় বাবলা-সোহাগপুর উপেন্দ্র বিদ্যাভবনের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক। মা সমাপ্তি জানা গৃহবধূ। অঙ্কন বলে, তৃতীয় স্থানাধিকারী হতে পেরে খুব ভাল লাগছে। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে। আপাতত লক্ষ্য, নিজেকে তৈরি করা। স্কুলের সহ-প্রধান শিক্ষক পীযূষকান্তি প্রামাণিক বলেন, অঙ্কন সহ তিনজন ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় র‌্যাংক করে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছে। 
এগরার ছত্রী বিবেকানন্দ বিদ্যাভবনের ছাত্র অরিজিৎ বর ৬৯৪ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে। বাড়ি এগরার ভাটদা এলাকায়। বাবা অমলকুমার বর দাঁতনের গড়হরিপুর হাইস্কুলের পিওর সায়েন্সের শিক্ষক। মা তনুশ্রী বর ভাটদা গদাধর প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। অরিজিৎ ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়।
খেজুরির চিঙ্গুরদনিয়া মডেল হাইস্কুলের ছাত্র অর্ণব বর্মন ৬৯২নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে। বাড়ি চিঙ্গুরদনিয়া এলাকাতেই। বাবা ভবেশ বর্মন পূর্তদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। মা সবিতা বর্মন ভগবানপুরের তিওরখালি নগেন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের জীববিদ্যার শিক্ষিকা। ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় অর্ণব। সেইমতো প্রস্তুতি সে এখন থেকেই নিচ্ছে।  এগার রামকৃষ্ণ শিক্ষা মন্দিরের ছাত্রী সপ্তম স্থানাধিকারী অভিষিক্তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১। সে চিকিৎসক হতে চায়। বাবা অমৃতরাজ রায় এগরার বাথুয়াড়ি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। মা সুমনা রায় সংসার সামলান। তাঁদের বাড়ি এগরার উর্দ্ধবপুর গ্রামে। একমাত্র সন্তানের পড়াশোনার জন্য এগরা শহরে দু’বছর ভাড়াবাড়িতে ছিল পরিবার। অভিষিক্তা বলেন, আমি চিকিৎসক হতে চাই। নিট পরীক্ষা দেব। চিকিৎসক হতে চায় ৬৮৯নম্বর পেয়ে নবম স্থানাধিকারী অনুষ্কাও।  বাবা গৌতম ভক্ত পিংলা মহাবিদ্যালয়ের বোটানির অধ্যাপক। মা নবনীতা ভক্তা ললাট গঙ্গাধর পাঠশালা হাইস্কুলের পুষ্টিবিজ্ঞানের শিক্ষিকা। তাঁরা সবংয়ের বাসিন্দা হলেও এগরা শহরে বসবাস করেন। চিকিৎসক হওয়াই লক্ষ্য অনুষ্কার। নিট পরীক্ষা দিয়ে সেই প্রস্তুতি নেবে।
ভগবানপুর-২ ব্লকের মানিকজোড় কামিনীকুমারী হাইস্কুলের ছাত্র সায়ন পাত্রও নবম স্থান অধিকার করেছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৯। সায়নের বাড়ি স্থানীয় বাসুদেববেড়িয়ায়। বাবা মলয়কুমার পাত্র কলকাতায় একটি কোম্পানিতে কাজ করেন। মা সঙ্গীতা পাত্র গৃহবধূ। সায়ন ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। পটাশপুরের মংলামাড়ো মংলা অ্যাকাডেমির ছাত্রী শারণ্যা নায়েক ৬৮৯নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় নবম স্থান লাভ করেছে। পটাশপুরের সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা তারা। বাবা পল্লব নায়েক ভগবানপুরের বাহাদুরপুর দেশপ্রাণ শিক্ষানিকেতন হাইস্কুলের গণিতের শিক্ষক। মা আত্রেয়ী নায়েক গৃহকর্ত্রী। আগামীদিনে সে চিকিৎসক হতে চায়। তারজন্য সে প্রস্তুতি নিচ্ছে।ভগবানপুর-২ ব্লকের বাঘাদাঁড়ি দেশপ্রাণ হাইস্কুলের ছাত্রী নয়নিকা পাল মেধাতালিকায় দশম স্থান অধিকার করেছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৮। নয়নিকার বাড়ি স্থানীয় একতারপুর এলাকায়।  বাবা জয়দেব পাল সমবায় সমিতির কর্মী। মা রমা পাল সংসারের দায়িত্ব সামলান। নয়নিকা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ