নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গে ৮৫-ঊর্ধ্ব নাগরিক সহ বিশেষভাবে সক্ষম প্রায় আট লক্ষ ভোটারের বাড়িতে গিয়েই ভোট সংগ্রহ করতে চায় নির্বাচন কমিশন। কেউ যদি বুথে গিয়ে ভোট দিতে চান, তবে অবশ্য আপত্তি নেই। তবে কমিশন চাইছে, নাগরিক সুবিধার্থে বাড়িতে বসেই তাঁরা ভোটদান করুন। যদিও ভোটকর্মীদের দিয়ে বাড়িতে গিয়ে ভোটদান কমিশনের কাছে একপ্রকার চ্যালেঞ্জও। তাই প্রভাব-মুক্ত ভোট করাতে পুরো ভোটদানের ভিডিও রেকর্ডিং করা হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকেও সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টরাও ভোটদান প্রক্রিয়ার সাক্ষী থাকতে পারবেন।
নির্দিষ্ট ভোটারের বদলে বাড়ির কোনো সদস্য ভোট দিয়ে দিল কি না, কড়া নজরদারি চালাবে কমিশন। অন্যথায় ভোট বাতিল হয়ে যাবে। ভোটের দিনের আগেই এই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। মনোনয়নের বিজ্ঞপ্তি জারির পাঁচদিনের মধ্যে কমিশনের ‘১২-ডি ফর্ম’ ফিলাপ করে স্থানীয় বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)কে জানাতে হবে যে, তিনি বাড়িতেই ভোট দিতে চান। সময় পেরিয়ে গেলে বুথে গিয়েই ভোট দিতে হবে।
এখনও পর্যন্ত কমিশনের যা হিসাব, তাতে পশ্চিমবঙ্গে ৮৫-ঊর্ধ্ব ভোটারের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৯৭৯। বিশেষভাবে সক্ষমের সংখ্যা ৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৯। সব মিলিয়ে ৭ লক্ষ ৯৫ হাজার ৬৮ জন। এরপর বিবেচনাধীনের বিচার শেষে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে আগামী ৩০ মার্চ। ফলে আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে বাড়িতে বসে ভোটদানের অনুরোধ জানাতে হবে। একইভাবে দ্বিতীয় দফার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ২ এপ্রিল। ফলে তার পাঁচদিন অর্থাৎ ৬ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ৮৫-ঊর্ধ্ব এবং বিশেষভাবে সক্ষমরা আবেদন
করতে পারবেন।
একইভাবে দমকল, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্বাস্থ্যক্ষেত্র, ট্রাফিক পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, অসামরিক বিমান পরিবহন, সড়ক পরিবহণে রাস্তা তৈরির কাজে দূরে কর্মরতদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সুযোগ রয়েছে। এমনকি কমিশনের বিশেষ পরিচয়পত্র পাওয়া নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত সাংবাদিকরাও এই সুবিধা পাবেন। তাদের ভোট দিতে হবে বিশেষভাবে তৈরি ‘ফেসিলিটেশন সেন্টারে’ গিয়ে। সেনাবাহিনীতে কর্মরতদের জন্য সার্ভিস ভোটার গ্রহণ করা হবে ‘ইলেকট্রনিক্যালি ট্রান্সমিটেড পোস্টাল ব্যালট সিস্টেম’ (ইটিপিবিএস)-এ। গণনার দিন (৪ মে) সকাল আটটার আগেই যাবতীয় পোস্টাল ব্যালট গণনাকেন্দ্রে পৌঁছতেই হবে বলেই জানিয়েছে কমিশন।