সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সোনামুখী পুরসভায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিলেন আটজন কাউন্সিলার। তাঁদের মধ্যে দু’জন সিপিএম, তিনজন সিপিএম সমর্থিত নির্দল এবং তিনজন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার রয়েছেন। তাঁরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে অপসারণ চেয়ে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। সোনামুখী পুরসভার চেয়ারম্যান সন্তোষ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি পেয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী ১৫দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকতে হবে। এখনো সময় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
সোনামুখী পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা ১১নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলার সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে কোনো বোর্ড মিটিং ডাকেননি। পুরসভার বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে বিরোধী কাউন্সিলারদের জানানো হয়নি। সব মিলিয়ে আমি ও আমাদের দলীয় প্রতীকে জেতা এক কাউন্সিলার ছাড়াও বামফ্রন্ট সমর্থিত তিনজন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের আরও তিন কাউন্সিলার অনাস্থা প্রস্তাবের একই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। আমরা অধিবেশনের অপেক্ষায় রয়েছি।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট সোনামুখী পুরসভায় সিপিএমের দু’জন, বামফ্রন্ট সমর্থিত তিনজন কাউন্সিলার রয়েছেন। বাকি ১০টি ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার রয়েছেন। চেয়ারম্যান রয়েছেন সন্তোষবাবু। ভাইস চেয়ারম্যান হন সোমনাথ মুখোপাধ্যায়। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে সোনামুখী পুরসভায় একপ্রকার অচলাবস্থা তৈরি হয়। পুর প্রতিনিধিদের সিংহভাগ গরহাজির থাকায় পরিষেবায় ঘাটতি দেখা যায়। এমনকি, পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে। কয়েকদিন আগেই বকেয়া বেতনের দাবিতে অস্থায়ীরা কর্মীরা আন্দোলনে নামেন। তাতে শহরের আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়ায় ময়লা জমতে থাকে। যদিও সোনামুখীর বিধায়কের হস্তক্ষেপে পরবর্তীতে পরিষেবা সচল করা হয়। এরকম পরিস্থিতিতে আটজন কাউন্সিলার চেয়ারম্যানের অপসারণ চেয়ে অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি দিয়েছেন। অর্থাৎ, অনাস্থার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলার রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যান ১৫দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকবেন। সেখানে ভোটাভুটি হবে। তারপর আবার সর্বসম্মতিক্রমে নতুন চেয়ারম্যান হবেন।
সোনামুখীর বিধায়ক দিবাকর ঘরামি বলেন, সাধারণ মানুষের কথা ভেবে আমরা পুরসভায় অচলাবস্থা হতে দেব না। তার জন্য পুর আইন অনুযায়ী যা পদক্ষেপ করার প্রশাসনের তরফে করা হবে।