Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শহরেও আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ৭৫৮টি নজির সামনে, কৃষ্ণনগরে চাঞ্চল্য

কৃষ্ণনগরে আবাসন প্রকল্পে ৭৫৮ জন উপভোক্তার নাম থাকলেও বাড়ি পাননি। দুর্নীতির অভিযোগে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য। বিস্তারিত পড়ুন।

শহরেও আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ৭৫৮টি নজির সামনে, কৃষ্ণনগরে চাঞ্চল্য
  • ১৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: গ্রামীণ আবাস প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। এবার শহরের আবাসন প্রকল্প নিয়েও বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এল কৃষ্ণনগর পুরসভায়। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় (আরবান) কৃষ্ণনগর শহরে ৭৫৮ জন এমন উপভোক্তার খোঁজ মিলেছে, যাঁদের নামে বাড়ি দেখানো হলেও বাস্তবে তাঁরা তা পাননি বলে প্রাথমিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। নগরোন্নয়ন দপ্তরের চলতি সমীক্ষায় এই তথ্য সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। 

Advertisement

সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় নির্মিত বাড়িগুলির জিও ট্যাগিং ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে নগরোন্নয়ন দপ্তর রাজ্যজুড়ে সমীক্ষা চালাচ্ছে। উদ্দেশ্য, প্রকৃত উপভোক্তারা সরকারি অনুদানের সুবিধা পেয়েছেন কি না, তা যাচাই করা। সেই সমীক্ষাতেই কৃষ্ণনগর পুরসভা এলাকায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বিধায়কের দাবি, প্রাথমিক রিপোর্টে ৭৫৮টি এমন কেস চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে সরকারি নথিতে যে উপভোক্তার নামে বাড়ি দেখানো হয়েছে বাস্তবে সেই ব্যক্তি বাড়ি পাননি। 
জানা গিয়েছে, অনিয়মের ধরন একরকম নয়। কোথাও প্রকৃত উপভোক্তার পরিবর্তে অন্য কেউ সরকারি সুবিধা ভোগ করেছেন। কোথাও আবার বাড়ি নির্মাণ না হলেও অর্থ ছাড়া হয়েছে। এমন ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে জিও ট্যাগিংয়ের তথ্য ধরে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে কোনো বাড়িই পাওয়া যায়নি। 
প্রকল্প অনুযায়ী একটি বাড়ি নির্মাণের জন্য মোট ৩ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। সেই হিসেবে ৭৫৮টি সন্দেহজনক কেসে সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের আশঙ্কা। 
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিজেপি। কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘যে সময় এই প্রকল্পের ঘর বণ্টন হয়েছে, সেই সময়কার কাউন্সিলার, পুরপ্রধান এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা উচিত। কারা উপভোক্তা নির্বাচন করেছেন, কারা সুপারিশ করেছেন এবং কীভাবে অর্থ বণ্টন হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে সরকারের কাছে পাঠাতে হবে। প্রয়োজনে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে আবাসন প্রকল্পে কৃষ্ণনগর পুরসভার জন্য মোট প্রাপ্য অর্থ প্রায় ৩৭ কোটি টাকা। ওই প্রকল্পে ১,০৭৯ জন উপভোক্তার বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রথম দফায় ৩৬ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় দফায় ২ কোটি ৯১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, তৃতীয় দফায় ৫ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা এবং চতুর্থ দফায় ১ কোটি ৭৭ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা কৃষ্ণনগর পুরসভা পায়। সম্প্রতি পঞ্চম দফায় আরও ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ধাপে ধাপে এই অর্থ প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়েছিল। নগরোন্নয়ন দপ্তরের সমীক্ষা এখনও চলছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, চিহ্নিত প্রতিটি উপভোক্তার নথি, জিও ট্যাগিং তথ্য, অর্থ প্রদানের রেকর্ড এবং বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ