


এবার আমার শ্বশুরবাড়ির লক্ষ্মীপুজোর ৭৫ বছর, যাকে আপনারা উত্তমকুমারের লক্ষ্মীপুজো বলেই চেনেন। একটু বড় করেই হবে। বিবাহসূত্রে আমার এই পরিবারে পাঁচ বছর হল। আমার শ্বশুরবাড়িতে পুজোর পাঁচ বছর। উত্তমকুমারের পুজোতে কিছু অন্যরকম নিয়ম রয়েছে। যা অন্যান্য বাড়ির থেকে স্বাভাবিকভাবেই আলাদা। সেগুলো এতদিনে আয়ত্ত করে নিয়েছি। যেমন ঢাক বাজানো। এমনিতে লক্ষ্মীপুজোয় ঢাক বাজে না। কিন্তু উত্তমকুমার ঢাকের প্রচলন করেছিলেন। এছাড়া এই বাড়ির প্রতিমার মুখ তৈরি হয় গৌরীদেবীর মুখের আদলে। সেই নিয়ম আজও প্রবাহমান। একই ছাঁচে বংশপরম্পরায় পটুয়া ঠাকুর গড়েন। আমার শাশুড়ি মা আর পিসশ্বশুর পুজোর আগে যান একবার। মূর্তি গড়ার সময় মাপ দেখে আসেন। ছাঁচ দেওয়া আছে। উত্তমরকুমার লক্ষ্মীপুজোয় এই বাড়িতে ভিয়েন বসাতেন। আনন্দনাড়ুও হতো। এগুলো এখন আর হয় না। মহানায়ককে দেখার জন্য লক্ষ্মীপুজোর দিন বাড়ির বাইরে ভিড় হতো। ঠাকুর দেখার মতো লাইন পড়ত। সে এক এলাহি ব্যাপার ছিল! এখনও পুজোর দিন অতিথি সমাগম হয়। গত ১৫ বছর ধরে আমার নাচের স্কুলেও লক্ষ্মীপুজো করি। বাঙালি মাত্রেই লক্ষ্মীপুজোয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সাজেন। টানা নথ। সোনার গয়না। আটপৌরে শাড়ি। আমিও সেই ধারা বজায় রাখার চেষ্টা করি। কিছুদিন আগে কেরল গিয়েছিলাম। একটা সাদা শাড়ি কিনেছি। মেরুন পাড়। ওই শাড়িটা লক্ষ্মীপুজোয় পরব। দেবী যেন সকলকে সুখে-শান্তিতে রাখেন, সেই প্রার্থনাই করব।