নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তিনি বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য। কিন্তু নাম রয়েছে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায়! শুধু তাঁর একা নয়, পরিবারের অন্যদেরও নাম আছে ওপারের তালিকায়। এসআইআর আবহে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে জেলার রাজনীতিতে। যদিও প্রতিক্রিয়া মেলেনি স্বরূপনগরের বিথারি-হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যের নাম সুভাষচন্দ্র মণ্ডলের। অভিযোগ, শুধু পঞ্চায়েত সদস্যই নয়, তাঁর পরিবারের প্রায় সবার শুনানিতে ডাক এসেছে। দুই দাদা, বউদি , ভাইপো সহ সাতজনকে ডেকে পাঠিয়েছে কমিশন। এই ঘটনায় বিজেপি সদস্যের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ সামনে এল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত সুভাষ। বিথারি-হাকিমপুর পঞ্চায়েতের ১০০ নম্বর বুথে গত ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন তিনি। সুভাষের নাম ভারতের ভোটার তালিকায় আছে। সম্প্রতি সীমান্তের ওপার থেকেও তাঁর নাম বাংলাদেশের সরকারি ভোটার তালিকায় থাকার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। সূত্রের খবর, নথি অনুযায়ী তাঁর বাংলাদেশে নাম সুভাষ মণ্ডল। বাবা রাধাকান্ত মণ্ডল। বাড়ি সাতক্ষীরার রুদ্রপুরে। ভারতে এসে তিনি সুভাষচন্দ্র মণ্ডল। বাবার নাম হয়েছে রাধাপদ মণ্ডল। বিষয়টি জানাজানি হতেই বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। স্থানীয়দের কথায়, এক ব্যক্তি কীভাবে দুই দেশের ভোটার তালিকায় নাম রাখতে পারে? স্বরূপনগরের তৃণমূল যুব সভাপতি ইমরান গাজি বলেন, এবার বিজেপি নেতার সত্যটা সামনে এল। আমরাও এই নিয়ে জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। এবার পঞ্চায়েত সদস্যেকে ভারতীয় প্রমাণ করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস উনি তা প্রমাণ করতে পারবেন না। বিষয়টি জানতে সুভাষচন্দ্র মণ্ডলকে ফোন করা হলেও ধরেননি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৭ ডিসেম্বর থেকে উত্তর ২৪ পরগনায় শুরু হচ্ছে শুনানি। স্বরূপনগর বিডিও অফিসে ৩০ ডিসেম্বর হিয়ারিং হবে। সেই দিন বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুখোমুখি হতে হবে শুনানিতে।
এদিকে, নাম যাতে বাদ না যায় সেই জন্য তৎপর হয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্য। বুধবার তিনি জেলাশাসকের দপ্তরে হাজির হন। সিএএ’র মাধ্যমে তিনি ভারতীয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে সূত্রের খবর। এনিয়ে ১০০ নম্বর বুথের বিএলও সুমন মণ্ডল বলেন, বিজেপি সদস্য সুভাষচন্দ্র মণ্ডলের হিয়ারিংয়ে ডাক পড়েছে। সেই নোটিশ পৌঁছে দিয়েছি। শুধু সদস্য নয় গোটা পরিবারই হিয়ারিংয়ে ডাক পাচ্ছেন। -ফাইল ছবি