


রাঁচি: সাড়ে সাত লক্ষ টাকা ধার করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছিল পরিবার। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে উড়ান শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে বিমানটি। মৃত্যু হয় ঝাড়খণ্ডের হোটেল ব্যবসায়ী সঞ্জয় কুমার সাউ, তাঁর স্ত্রী ও এক আত্মীয়ের। নিহতের তালিকায় রয়েছে চিকিৎসক বিজয় কুমার গুপ্তা, নার্স ও দুই পাইলটও।
ঝাড়খণ্ডের লাতেহারে একটি হোটেলের মালিক সঞ্জয়। হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে তাঁর দেহের ৬৫ শতাংশই পুড়ে যায়। তাঁকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, রাঁচিতে সঞ্জয়ের চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাঁকে দিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালে ভরতি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সঞ্জয়ের পক্ষে সড়কপথে দিল্লি যাওয়া সম্ভব ছিল না। সেই কারণে সাড়ে সাত লক্ষ টাকা ধার করে বন্দোবস্ত করা হয়েছিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের।
দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে সঞ্জয়ের স্ত্রী অর্চনা দেবী, আত্মীয় ধ্রুব কুমারেরও। তাঁদের রাঁচি বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে এসেছিলেন ভাই বিজয় সাউ। তিনি বলেন, ‘আমরা বাড়ি পৌঁছেই টিভিতে দুর্ঘটনার খবর পাই। সব কিছু শেষ হয়ে গেল।’ সঞ্জয়ের শ্যালক তথা অর্চনার ভাই আবার প্রশ্ন তুলেছেন রাঁচির চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘রাঁচিতে চিকিৎসার যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকলে এভাবে বোন ও তাঁর স্বামীকে হারাতে হত না।’ সঞ্জয় ও অর্চনার দুই নাবালক সন্তান রয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃত চিকিৎসক বিজয় কুমার গুপ্তার বাবা বজরঙ্গী প্রসাদ বলেছেন, ‘অত্যন্ত মেধাবী ছিল বিজয়। নিজের সমস্ত জমি বিক্রি করে ছেলেকে ডাক্তারি পড়িয়েছিলাম। তার একটি সাত বছরের সন্তান রয়েছে।’