দেরাদুন: রবিবার ভোর ৫টা ১৯মিনিট। পুণ্যার্থীদের নিয়ে কেদারনাথ থেকে গুপ্তকাশীর দিকে রওনা দিয়েছিল আরিয়ান অ্যাভিয়েশনের বেল ৪০৭ হেলিকপ্টার। অশনি সঙ্কেত দিয়েই রেখেছিল খারাপ আবহাওয়া। তাও উড়েছিলেন পাইলট। দৃশ্যমানতার সমস্যাকে সঙ্গী করেই। কয়েক মিনিট মাত্র। তারপরই সব শেষ। তাড়া করে চলা আমেদাবাদের আতঙ্কের মধ্যেই আরও এক বিপর্যয়। পাইলট সহ সাতজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই কপ্টার ভেঙে পড়ল গৌরীকুণ্ডের জঙ্গলে। দুধের শিশু, পাঁচ পুণ্যার্থী, পাইলট... মৃত্যু কেড়ে নিল সবাইকেই। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পুড়ে যাওয়া জঙ্গলের একাংশে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। মিলেছে শুধু প্রাণহীন দেহ, আর গুরুতর এক প্রশ্ন—মাত্র ছ’সপ্তাহের মধ্যে কেদারে পাঁচটি দুর্ঘটনা কেন? ২ মে কেদারনাথের দরজা খুলেছে সাধারণ মানুষের জন্য। আর এই ক’দিনে একের পর এক কপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের! বারবার কেন? কীভাবে? এই প্রশ্নে রীতিমতো চিন্তায় ধামির সরকার। দুর্ঘটনার পরই উত্তরাখণ্ড সিভিল অ্যাভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারের মধ্যে পাইলট, পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও ২৩ মাসের এক শিশু ছিল। তাঁদের বাড়ি উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানে। সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রবি ও সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে চারধাম যাত্রার কপ্টার পরিষেবা। সংস্থার দুই ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘এবার কেদারনাথ। অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা।’



