Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ছ’সপ্তাহের মধ্যেই পাঁচটি দুর্ঘটনা, কেদারের গৌরীকুণ্ডে কপ্টার ভেঙে মৃত ৭

রবিবার ভোর ৫টা ১৯মিনিট। পুণ্যার্থীদের নিয়ে কেদারনাথ থেকে গুপ্তকাশীর দিকে রওনা দিয়েছিল আরিয়ান অ্যাভিয়েশনের বেল ৪০৭ হেলিকপ্টার। অশনি সঙ্কেত দিয়েই রেখেছিল খারাপ আবহাওয়া। তাও উড়েছিলেন পাইলট। দৃশ্যমানতার সমস্যাকে সঙ্গী করেই।

ছ’সপ্তাহের মধ্যেই পাঁচটি দুর্ঘটনা, কেদারের গৌরীকুণ্ডে কপ্টার ভেঙে মৃত ৭
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দেরাদুন: রবিবার ভোর ৫টা ১৯মিনিট। পুণ্যার্থীদের নিয়ে কেদারনাথ থেকে গুপ্তকাশীর দিকে রওনা দিয়েছিল আরিয়ান অ্যাভিয়েশনের বেল ৪০৭ হেলিকপ্টার। অশনি সঙ্কেত দিয়েই রেখেছিল খারাপ আবহাওয়া। তাও উড়েছিলেন পাইলট। দৃশ্যমানতার সমস্যাকে সঙ্গী করেই। কয়েক মিনিট মাত্র। তারপরই সব শেষ। তাড়া করে চলা আমেদাবাদের আতঙ্কের মধ্যেই আরও এক বিপর্যয়। পাইলট সহ সাতজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই কপ্টার ভেঙে পড়ল গৌরীকুণ্ডের জঙ্গলে। দুধের শিশু, পাঁচ পুণ্যার্থী, পাইলট... মৃত্যু কেড়ে নিল সবাইকেই। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পুড়ে যাওয়া জঙ্গলের একাংশে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। মিলেছে শুধু প্রাণহীন দেহ, আর গুরুতর এক প্রশ্ন—মাত্র ছ’সপ্তাহের মধ্যে কেদারে পাঁচটি দুর্ঘটনা কেন? ২ মে কেদারনাথের দরজা খুলেছে সাধারণ মানুষের জন্য। আর এই ক’দিনে একের পর এক কপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের! বারবার কেন? কীভাবে? এই প্রশ্নে রীতিমতো চিন্তায় ধামির সরকার। দুর্ঘটনার পরই উত্তরাখণ্ড সিভিল অ্যাভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারের মধ্যে পাইলট, পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও ২৩ মাসের এক শিশু ছিল। তাঁদের বাড়ি উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানে। সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রবি ও সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে চারধাম যাত্রার কপ্টার পরিষেবা। সংস্থার দুই ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘এবার কেদারনাথ। অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা।’

Advertisement

এর আগে ৮ মে পুণ্যার্থীদের নিয়ে গঙ্গোত্রী ধামের দিকে রওনা দিয়েছিল একটি হেলিকপ্টার। আচমকা উত্তরকাশীতে ভেঙে পড়ে। সেই দুর্ঘটনায় ছয় জনের মৃত্যু হয়েছিল। ১২ মে বদ্রীনাথ থেকে সেরসি ফিরছিল আর একটি কপ্টার। খারাপ আবহাওয়ার জেরে হঠাৎই উখিমঠের কাছে একটি স্কুলমাঠে জরুরি অবতরণ করাতে হয়। একইভাবে ১৭ মে ও ৭ জুন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একটি হেলি অ্যাম্বুলেন্স ও কপ্টার। লাগাতার এই কেন? শুধুই কি খারাপ আবহাওয়া? নাকি বাধা উপেক্ষা করে টানা পরিষেবা দিয়ে যাওয়ার চাপ? এদিনও কিন্তু পাইলট চেষ্টা করেছিলেন দ্রুত খারাপ আবহাওয়ার জোন থেকে বেরিয়ে যেতে। কিন্তু পারেননি। 
শোকপ্রকাশের পাশাপাশি রবিবারই জরুরি বৈঠক ডেকে রাজ্যে কপ্টার পরিষেবার ক্ষেত্রে একটি এসওপি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই কমিটি হেলিকপ্টার পরিষেবার সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দুর্ঘটনার যাবতীয় কারণ খতিয়ে দেখবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ