নয়াদিল্লি: মনরেগা অতীত। নাম ও কলেবর বদলে ১ জুলাই থেকে চালু হয়েছে কেন্দ্রের আনা নতুন প্রকল্প— ভিবি-জি রাম জি। যদিও সন্ধিক্ষণের এই মুহূর্তে প্রথম দু’সপ্তাহে নথিভুক্ত কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী হয়েছে বলে অভিযোগ। শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীদের সম্মিলিত মঞ্চ লিবটেক ইন্ডিয়ার তেমনটাই দাবি। তাদের বিশ্লেষণে উঠে আসা তথ্য বলছে, শুরুর দু’সপ্তাহে মনরেগার সাপেক্ষে নতুন প্রকল্প জি রাম জিতে নথিভুক্ত শ্রমিক সংখ্যা ২৭ কোটি থেকে কমে হয়েছে ২৬ কোটি ৩৩ লক্ষ। অর্থাৎ, শ্রমিক সংখ্যা কমেছে মোট ৬৭ লক্ষ ৬০ হাজার বা ২.৫ শতাংশ। যদিও কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক বলেছে, তাদের কাছে এখনও কোনো অভিযোগ আসেনি।
লিবটেক ইন্ডিয়ার দাবি, শুধু মোট সংখ্যা নয়, কমেছে সক্রিয় শ্রমিকও। বিগত তিন বছরে অন্তত একবার এই প্রকল্পে কাজ করেছেন— এমন শ্রমিকের সংখ্যা ১০ কোটি ৮৪ লক্ষ থেকে কমে হয়েছে ১০ কোটি ৫৭ লক্ষ। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে সক্রিয় শ্রমিক কমেছে ২৬ লক্ষ ৩০ হাজার বা ২.৪৩ শতাংশ। তবে, গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের আধিকারিকরা এই বিশ্লেষণ মানতে নারাজ। তাঁরা বলেছেন, এই সমীক্ষা স্বল্প সময়ের জন্য করা হয়েছে। এতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি কর্তৃক কর্মী ও জব কার্ডের রেকর্ডের ক্রমাগত যাচাই, আপডেট এবং রিন্যুয়ালের বিষয়গুলি প্রতিফলিত হয়নি। আধিকারিকরা আরও বলেন, নথিভুক্ত ও সক্রিয় কর্মীদের সংখ্যা পরিবর্তনশীল পরিসংখ্যান। রেকর্ড আপডেট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটিও বদলাতে থাকে। কেন্দ্রের আধিকারিকরা রাজ্যগুলির উপর দায় চাপিয়ে যুক্তি দিয়েছেন, যেকোনো ধরনের বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কেন্দ্রের নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করতে হবে। ই-কেওয়াইসি বা ফেস অথেন্টিকেশন সম্পন্ন না করার কারণে কাজ না পাওয়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নতুন আইনের অধীনে ১ লক্ষ ৯১ হাজার শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করে প্রায় ৮৪ হাজার গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড ইতোমধ্যেই ইস্যু করা হয়েছে।