


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কাকা দস্তুরমতো জীবিত। থাকেন মুম্বইয়ে। তাঁর এক প্রৌঢ় ভাইপো আছে। তিনি থাকেন মছলন্দপুরে। সে ব্যক্তি অত্যন্ত ‘গুণধর’। অনুপস্থিত কাকাকে মৃত ঘোষণা করে বানালেন একটি ওয়ারিশন সার্টিফিকেট। এ কাজ করতে গিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের সই পর্যন্ত জাল করলেন। সেই সার্টিফিকেট পেশ করে কাকার মালিকানাধীন গোবরডাঙার একটি জমি চেষ্টা করলেন হাতিয়ে নিতে। কিন্তু জালিয়াতির ঘটনাটি অচিরেই জানাজানি হয়ে যায়। আর গুণধর ভাইপোর স্থান হয় শ্রীঘরে। ধৃতের নাম সমীরণ দাস (৬৩)। ধরা পড়ার পর তিনি জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয়, উল্টে দায় ঠেলে দিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের দিকে।
ঘটনাটি হাবড়া এক নম্বর ব্লকের মছলন্দপুর এক নম্বর পঞ্চায়েতের বামনডাঙা এলাকার। শুক্রবার সমীরকে বারাসত আদালতে তোলা হয়েছিল। বিচারক তিনদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, বামনডাঙার বাসিন্দা হিমাংশু দাস থাকেন মুম্বই। তাঁর কন্যা সঙ্গে থাকেন। হিমাংশুবাবুর ভাইপো হলেন সমীরণ। তিনি মছলন্দপুর এক নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধানের সই নকল করে ওয়ারিশন সার্টিফিকেটটি বানিয়েছেন। সম্পত্তি হাতাতে সমীর এই কাজ করেছেন এ খবর কোনওভাবে পৌঁছয় হিমাংশুর কন্যা তনুশ্রীর কাছে। শুক্রবার ইমেল করে বিষয়টি তিনি জানান পঞ্চায়েত প্রধান কল্পনা বসুর কাছে। এরপর নথিপত্র দেখার কাজ শুরু করে পঞ্চায়েত। দেখা যায় সার্টিফিকেটটি জাল। মেমো নম্বরের কোনও মিল নেই। প্রধানের সইও নকল। এরপর পঞ্চায়েত প্রধান গোবরডাঙা থানায় সমীরের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ জানান। পুলিস সমীরকে গ্রেপ্তার করে। প্রধান কল্পনা বসু বলেন, ‘পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন।’ পুলিস জানিয়েছে, ধৃতকে জেরা করে এর পিছনে অন্য কেউ জড়িত কি না তা জানার চেষ্টা চলছে।’ নিজস্ব চিত্র