নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৬০ হাজার উপভোক্তার আধার সংযোগ এখনও হয়নি। আগামী জুন মাসের মধ্যে সেই আধার সংযোগের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে। সেই মতো জেলার বিভিন্ন ব্লকে মেগা শিবির করে জোরকদমে উপভোক্তাদের আধার নম্বর সংযোগ করা হচ্ছে। যাঁদের অতীতে আধার সংযোগ করানো হয়নি, তাঁদের জন্যই এই শিবির করা হচ্ছে। কারণ চলতি বছর থেকেই কৃষকবন্ধু প্রকল্পে চাষিদের প্রাপ্য টাকা আধার নম্বরে নির্ভর করেই পাঠানো হবে বলে কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে এই কর্মসূচিতে বাধ সাধছে সার্ভার ডাউনের সমস্যা। সম্প্রতি আধার সংযোগের এই কাজে বেশ কয়েকদিন সার্ভার ডাউন থাকার ফলে কাজ এগয়নি।
নদীয়া জেলার কৃষি উপ অধিকর্তা জয়দেব মজুমদার বলেন, আমাদের জেলায় কৃষকবন্ধু প্রকল্পে এখনও ৫৭ হাজার উপভোক্তার আধার সংযোগ করা হবে। তার জন্য বিভিন্ন জায়গায় শিবির করে এই কাজ করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই আমাদের জেলায় একশো শতাংশ উপভোক্তার আধার সংযোগ কাজ সম্পূর্ণ হবে। জেলার কৃষকবন্ধু প্রকল্প ৬ লক্ষের বেশি চাষি রয়েছেন। এই প্রকল্পের চাষিদের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা প্রতি বছর বরাদ্দ করা হয় রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। কৃষকবন্ধুর আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের আওতায় চাষিদের নিজস্ব এক একর বা তার অধিক চাষযোগ্য জমি থাকলে বার্ষিক ভাতা হিসেবে বছরে দু’দফায় ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। আর এক একরের কম চাষযোগ্য জমি থাকলে বার্ষিক ৫ হাজার টাকা ভাতা হিসেবে দু’দফায় দেওয়া হয় চাষিদের। সেই টাকা সরাসরি চাষিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কৃষকবন্ধুর উপভোক্তাদের আধার সংযোগ করার ব্যবস্থা ছিল না। তারপর থেকেই আধার সংযোগের ব্যবস্থা চালু হয়। বহু মানুষের আধার সংযোগ না হওয়ায় দেখা গিয়েছিল, অনেকেরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কৃষক বন্ধুর টাকা একাধিকবার ঢুকেছে। যদিও পরবর্তীতে সেই সমস্ত টাকা ফিরিয়ে নিয়েছে কৃষিদপ্তর। দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, সরকার চাইছে কৃষকবন্ধুতে আধার বেসড পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করতে। এর ফলে সঠিক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টেই টাকা ঢুকবে। সম্প্রতি কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র কৃষকবন্ধু প্রকল্পে চাষিদের টাকায় অসাধু ব্যক্তি থাবা বসাচ্ছে বলে অভিযোগ এনেছিলেন। উপভোক্তাকে সরকারি টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করেই ‘তোলা’ আদায় করা হচ্ছে। চাষিকে কৃষকবন্ধু প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা এবং চাষির পরিবারকে দেওয়া কৃষকবন্ধুর মৃত্যুকালীন সহায়তা—দুই ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের টাকা আদায় করা হচ্ছে। সাংসদ ভিডিও বার্তায় করেন যাতে কেউ দালালকে প্রকল্পের টাকার ভাগ না দেন।