Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেধা তালিকায় পূর্ব বর্ধমানের ৬ পড়ুয়া, শহরকে টেক্কা গ্রামের স্কুলগুলির

মেধা তালিকায় পূর্ব বর্ধমানের ৬ পড়ুয়া, শহরকে টেক্কা গ্রামের স্কুলগুলির
  • ৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় পূর্ব বর্ধমানের ছ’জন পড়ুয়া ঠাঁই পেয়েছে। তারমধ্যে বর্ধমান শহরের রয়েছে মাত্র দু’জন। এবার শহরের নামী দু’টি স্কুলের পড়ুয়ারা মেধা তালিকায় ঠাঁই পায়নি। ফলাফলের নিরিখে শহরকে জেলার গ্রামীণ এলাকা গুলি টেক্কা দিয়েছে। কেতুগ্রামের নিরল হাই স্কুলের মহম্মদ সেলিম মেধা তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। জেলার জঙ্গলমহল হিসাবে পরিচিত আউশগ্রামের আমরাগড় হাই স্কুলের সৌরিন রায় সপ্তম স্থান অধিকার করেছে। কালনার সহজপুরের কাঁকুড়িয়া দেশবন্ধু হাই স্কুলের ছাত্র ময়ূখ বসু নবম স্থানে রয়েছে। মঙ্গলকোটেব কাশেমনগর বিএনটিপি হাই স্কুলের স্বাগতা সরকার দশম হয়েছে। বর্ধমান শহরের বিদ্যার্থী ভবন গালর্স হাই স্কুল এবং মিউনিসিপাল হাই স্কুলের দুই ছাত্রছাত্রী মেধা তালিকায় রয়েছে। শিক্ষক শিক্ষিকারা বলেন, প্রতিবারই বর্ধমান শহরের স্কুলগুলি চমক দেয়। শহরের নামী চারটি স্কুলের মধ্যে কার্যত প্রতিযোগিতা চলে। কিন্তু এবার দু’টি স্কুল প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গিয়েছে। বর্ধমান সিএমএস হাই স্কুল থেকে মনোরঞ্জন কুম্ভকার সর্বোচ্চ নম্বর ৬৭৪ পেয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিন্টু রায় বলেন, ২২২জন পরীক্ষা দিয়েছিল। সকলেই পাশ করেছে। ২০জন ৯০ শতাংশর বেশি নম্বর পেয়েছে। শহরের টাউন হাই স্কুলেরও কোনও পড়ুয়া মেধা তালিকায় ঠাঁই পায়নি। 

Advertisement

মেমারি বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের সোহম মণ্ডল ৬৮৩ নম্বর পেয়েছে। কেতুগ্রামের বাসিন্দা শেখ সামসুর বলেন, শহরে থেকে ভালো ফল করা অনেক সহজ। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কেউ মেধা তালিকায় জায়গা পেলে সেটা অনেক বড় বিষয়। চতুর্থ স্থানাধিকারী মহম্মদ সেলিম সেদিক থেকে নজির তৈরি করেছে। সে বলে, ভাল করার জেদেই সাফল্য এসেছে। মন দিয়ে পড়াশোনা করেছি। আগামী দিনেও সাফল্য ধরে রাখাই আমার লক্ষ্য। মঙ্গলকোটের মতো প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও এই ছাত্র মেধা তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলিতেও পরিকাঠামো উন্নত করেছে। পড়াশোনার মানও ভালো হয়েছে। তাছাড়া এখন পড়াশোনার জন্য অভিভাবকদের চিন্তা করতে হয় না। সরকার সবরকমভাবে সহযোগিতা করে। তার সুফল পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় এবার ১৮ হাজার ৯৪৬ জন ছাত্র পরীক্ষায় বসেছিল। ২৩ হাজার ৮৭১জন ছাত্রী পরীক্ষা দিয়েছিল। ছাত্রীরা বেশি সংখ্যায় পরীক্ষায় বসলেও মেধা তালিকায় ছাত্ররাই এগিয়ে রয়েছে। জেলার মধ্যে দু’জন ছাত্রী মেধা তালিকায় রয়েছে। ছাত্রের সাফল্যের হার ৫৮.০১ শতাংশ। ছাত্রীদের মধ্যে ৩৫.৭২ শতাংশ সাফল্য পেয়েছে। গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলি ভালো ফল করায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষা মহলও। মাধ্যমিক পরীক্ষার কনভেনার অমিত রায় বলেন, অধিকাংশ অভিভাবকের ধারণা ছিল শহরের স্কুলে পড়ালেই ছেলে মেয়েদের ভালো ফল হয়। কিন্তু, গ্রামের স্কুলগুলিও ভালো ফল করতে পারে। সেটা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ