Bartaman Logo
২৭ জুন, ২০২৬

‘অপারেশন সিন্দুরে’ শহিদ ৬ জওয়ান, প্রথমবার স্বীকারোক্তি মোদি সরকারের

পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ‘অপারেশন সিন্দুরে’ ৬ জওয়ান শহিদ। কেন্দ্রীয় সরকারের এই স্বীকারোক্তি রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

‘অপারেশন সিন্দুরে’ শহিদ ৬ জওয়ান, প্রথমবার স্বীকারোক্তি মোদি সরকারের
  • ২৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রত্যাঘাত হিসাবে ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন ৬ ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার এই প্রথম জনসমক্ষে একথা স্বীকার করে নিল। ৬ শহিদের মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় সেনাবাহিনী ও একজন বায়ুসেনার সদস্য। শুক্রবার সরকারের তরফে তাঁদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ এক বছর আগে ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই লোকসভায় দাঁড়িয়ে স্বয়ং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দাবি করেছিলেন, অপারেশন সিন্দুরে ভারতীয় বাহিনীকে কোনো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হারাতে হয়নি। কোনো জওয়ান জখমও হননি। যদিও এদিন সরকার জানাল, ৬ জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা।

Advertisement

ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের ওয়েবসাইটে ‘রোল অব অনার’-এ শহিদ জওয়ানদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। জানানো হয়েছে, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত যুদ্ধ স্মৃতিসৌধ বা ওয়ার মেমোরিয়ালের ‘৩ডি’ ওয়ালে নামগুলি খোদাই করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে দেশের হয়ে প্রাণ দেওয়া সকল সৈনিকের তালিকার অন্তর্গত ‘অপারেশন সিন্দুরে’র এই বীর জওয়ানদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। ‘অপারেশন সিন্দুরে’ দেশের সুরক্ষায় আত্মবলিদান দেওয়া এই জওয়ানরা হলেন সুবেদার মেজর পবন কুমার, রাইফেলম্যান সুনীল কুমার (বীরচক্র), ল্যান্স নায়েক দীনেশ কুমার, অ্যাভিয়েশন টেকনিশিয়ান মুদ মুরলীনায়ক, হাবিলদার সুনীল কুমার সিং ও সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার (বায়ু মেডেল)। এই ৬ শহিদের মধ্যে সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার বাসুসেনার সদস্য। বাকি পাঁচ শহিদ ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ান।
গত বছর এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। প্রত্যাঘাতে নেমে ৭ মে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে ভারত। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন জঙ্গিঘাঁটিতে নিশানা বানায় ভারতীয় বাহিনী। চারদিন ধরে পাকিস্তানের সঙ্গে চলে তুমুল সংঘর্ষ। এরপর গত বছর ২৮ জুলাই ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে সংসদে আলোচনা শুরু হয়। ওইদিনই অধিবেশন শুরু এক ঘণ্টা আগে ভারতীয় সেনা এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে জানায়, এলিট প্যরো কমান্ডো বাহিনী ‘অপারেশন মহাদেব’ চালিয়ে পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড সহ তিন জঙ্গিকে নিকেশ করেছে। আর অধিবেশন শুরুর পর লোকসভায় প্রায় এক ঘণ্টার ভাষণে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ কেউ জখমও হননি বলে জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
এই প্রসঙ্গ তুলে এদিন সরব হয়েছে কংগ্রেস। দলের মিডিয়া সেলের প্রধান পবন খেরা বলেন, দু’টি সম্ভাবনা আছে। প্রথমত, যখন রাজনাথ ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন তিনি জানতেন না ছ’জন শহিদ হয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিষয়টি জানেন না, এটা অবাক করার মতো বিষয়। দ্বিতীয়ত, তিনি সত্যিটা জানতেন। কিন্তু শপথ নিয়েও সংদেকে ভুলপথে চালিত করেছেন। এটি আরও গুরুতর বিষয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ