Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬

রামলালার হিরের হারও চুরি? ট্রাস্ট সচিবের ইস্তফা পর্বেই নয়া অভিযোগ কংগ্রেসের

প্রবল চাপের মুখে বৃহস্পতিবারই এফআইআর দায়ের করেছে রামমন্দির কর্তৃপক্ষ। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এফআইআরে নাম থাকা আটজনকে।

রামলালার হিরের হারও চুরি? ট্রাস্ট সচিবের ইস্তফা পর্বেই নয়া অভিযোগ কংগ্রেসের
  • ২৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রবল চাপের মুখে বৃহস্পতিবারই এফআইআর দায়ের করেছে রামমন্দির কর্তৃপক্ষ। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এফআইআরে নাম থাকা আটজনকে। বিরোধীদের দাবি, এরা সকলেই চুনোপুঁটি। তাহলে রামমন্দিরের ভক্তদের দানের অর্থ-অলংকার চুরিতে কোন কোন রাঘববোয়াল জড়িত? সেই প্রশ্ন উঠতে উঠতেই শুক্রবার ‘নক্ষত্র পতন’! গোটা ঘটনায় ‘নৈতিকতা’র দোহাই দিয়ে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের মহাসচিবের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রবীণ নেতা চম্পত রাই। পদত্যাগ করেছেন ট্রাস্টি অনিল মিশ্রও। তাতেও বিতর্ক থামছে না। এই ইস্তফা পর্বে নতুন অভিযোগ তুলেছে দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস— রামমন্দির থেকে আরাধ্য রামলালার গলার হিরের হারও চুরি হয়েছে! দলের মুখপাত্র তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব শুক্লা বলেছেন, ‘রামলালার গলার হিরের হারও চুরি হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এই নয়ছয়ে চুনোপুঁটিদের ধরে কী হবে? আসল রাঘববোয়াল কারা? বড়ো কোনো মাথার পরিকল্পনা না থাকলে এত বড়ো চুরি হতে পারে না।’ তাঁর কটাক্ষ, ‘আগে রামের নামে ভোট লুট করেছে। এখন রামের নামে নোট চুরি করছে!’ ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে সুপ্রিম কোর্টের কাছে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের আরজি জানিয়েছেন কংগ্রেস মুখপাত্র। দাবি তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তের।

Advertisement

শুধু কংগ্রেস নয় সমাজবাদী পার্টি, আপের মতো বিরোধী দলগুলিও সুর চড়িয়েছে এই ইস্যুতে। তাদের সাফ বক্তব্য, আর্থিক লেনদেন সহ রামমন্দিরের যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ট্রাস্ট। ফলে চম্পত রাইরা শুধু ‘নৈতিকতা’র দোহাই দিয়ে দায় এড়াতে পারেন না। আঙুল উঠেছে ট্রাস্টের সভাপতি তথা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রাক্তন প্রধান সচিব নৃপেন্দ্র মিশ্রের দিকে। তিনি অবশ্য আগেই মন্দিরের বর্তমান ‘ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বদলের দাবি তুলেছেন। কিন্তু তাঁরও কি পদত্যাগ করা উচিত নয়? সেই প্রশ্ন উঠছে।
রামমন্দিরকাণ্ডে উত্তরপ্রদেশ সরকার গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে এফআইআর দায়েরের পরামর্শ দিয়েছিল। সিটের পেশ করা প্রাথমিক রিপোর্টে অসংখ্য অনিয়ম ও দানসামগ্রী আত্মসাতের ইঙ্গিত রয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, প্রণামি গোনার সময় কর্মীদের মধ্যে একজন সিসি ক্যামেরা আড়াল করে দাঁড়িয়ে পড়তেন। সেই সুযোগে টাকা সরিয়ে ফেলত অন্য কর্মী। এমনকি, গোনার সময় প্রতি বান্ডিলে বাড়তি নোট ঢুকিয়ে রাখা হত। পরে শুধু বান্ডিলের সংখ্যা গুনে ভাউচার তৈরি করতেন অন্য আধিকারিকরা। সময় বুঝে বান্ডিল থেকে সেই বাড়তি নোট সরিয়ে ফেলত অভিযুক্তরা। চুরির টাকা রাখা হত মন্দির চত্বরে থাকা শৌচাগারের মধ্যে। পরে সুযোগমতো তা নিয়ে মন্দির থেকে বেরিয়ে গিয়ে অভিযুক্তরা ভাগাভাগি করত।
এই মামলায় ধৃত অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রামশংকর মিশ্র, সুভাষচন্দ্র শ্রীবাস্তব, রামশংকর যাদব ওরফে টিন্নুকে ২৯ জুন পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। উদ্ধার হয়েছে ৭৯ লক্ষ টাকা। ধৃতদের মধ্যে প্রাক্তন ব্যাংককর্মী সুভাষচন্দ্র ছিল নগদ গণনা কর্মীদের ইনচার্জ। মন্দিরের ‘অ্যাডমিনিস্টেটর’ টিন্নু আবার একসময় ছিল ট্রাস্টের মহাসচিব চম্পত রাইয়ের গাড়ির চালক। এই দু’জনকেই গোটা চক্রের মাস্টারমাইন্ড বলেই দাবি করেছে সিট। ধৃতদের মধ্যে অনেকেই একে অপরের আত্মীয়। সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের চাকরি হয় টাকা গোনার টিমে। সূত্রের খবর, ধৃতদের অনেকেরও অযোধ্যায় জমি সহ সম্পত্তির বহর লাফিয়ে বেড়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ