নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সামনে গ্যারাজ। আর তার ভিতরে গাড়ির আড়ালে থরে থরে সাজানো প্যাকেট। সেইসব প্যাকেট বোঝাই করা ছিল গাঁজায়। ঘটনাস্থল হুগলির পোলবা থানার পাঁচরখি গ্রাম। গভীর রাতে সেখানেই অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৭ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে গ্যারাজ মালিক তথা গাঁজা কারবারি বাবু পালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি প্রাইভেট গাড়ি। রবিবারই বাবুকে আদালতে তুলে নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি হুগলির রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা। প্রায় একবছর আগে সে সুগন্ধার পাঁচরখি গ্রামে গ্যারাজটি কিনেছিল। তারপরেই গাঁজার ব্যবসা শুরু করেছিল।
প্রসঙ্গত, হুগলিতে এবারই প্রথম নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বারবার বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। মূলত, পাণ্ডুয়া, পোলবা-দাদপুর, এই অঞ্চলেই কখনো মজুত রাখা গাঁজা, কখনো বা পাচারের সময় গাঁজা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ধৃত বাবুর কাছ থেকে তাই অনেকগুলি বিষয় জানতে চাইছে পুলিশ। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গাঁজার আমদানি ও বিক্রি বা সরবরাহের গতিপথ, বাবু নিজে ব্যবসাদার না মজুত করে রাখার কাজ করত, ওই ব্যক্তির অর্থের উৎস কী, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চাইছেন তদন্তকারীরা। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এক কর্তা বলেন, গ্যারাজ থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা নগদও মিলেছে। গাঁজার উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়াই প্রধান কাজ। ধৃতকে জেরা করা হবে। অন্যদিকে, পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, বাবু নিজে যেমন ব্যবসা করত তেমনই বাইরে থেকে তার কাছে গাঁজা নিতে লোকজন আসত। তবে গাঁজা মণিপুর বা অসম না কি ওড়িশা থেকে আসত, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে পোলবা থানার ওসি শুভ ঘোষের কাছে একটি গোপন তথ্য এসেছিল। তাতে পোলবা থেকে গাঁজা বাইরে পাচার করার কথা জানা গিয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ বড়ো বাহিনী নিয়ে অভিযান চালায়। পাঁচরখি গ্রামে বাবুর গ্যারাজ রাতের অন্ধকারে ঘিরে ফেলে পুলিশবাহিনী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গ্যারাজ ছেড়ে পালানোর তাল করলেও বাবুর সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। তার আগেই পুলিশ তাকে ধরে ফেলে। প্রথমে গ্যারাজ কর্মী বলে ভাবা হলেও জেরায় জানা যায় বাবুই গ্যারাজের মালিক। এরপর গ্যারাজের ভিতরে তল্লাশি চালিয়ে থরে থরে সাজানো গাঁজার প্যাকেটের হদিশ মেলে। এদিকে, বারবার বিপুল পরিমাণ গাঁজা কেন উদ্ধার হচ্ছে, সে প্রশ্ন ফের উঠেছে।