Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাতীয় ভাতা প্রকল্পে ‘বেপাত্তা’ ৪৯৬ জন উপভোক্তার নাম বাদ শিলিগুড়িতে

মাসে হাজার টাকা করে ঢুকছে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। কিন্তু, উপভোক্তাই ‘বেপাত্তা’!

জাতীয় ভাতা প্রকল্পে ‘বেপাত্তা’ ৪৯৬ জন উপভোক্তার নাম বাদ শিলিগুড়িতে
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মাসে হাজার টাকা করে ঢুকছে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। কিন্তু, উপভোক্তাই ‘বেপাত্তা’! শিলিগুড়ি শহরে জাতীয় ভাতা প্রকল্পে এমন উপভোক্তার সংখ্যা ৪৯৬ জন। চার মাস অভিযান চালিয়েও তাঁদের সন্ধান পায়নি পুরসভা। তারা সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের নাম তালিকা থেকে ছাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি পাশ করা হয়। কিন্তু, চার মাসে নিখোঁজ উপভোক্তাদের ব্যাংক আকাউন্টে ঢুকেছে প্রায় ১৯ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা। তা উদ্ধার করতে ব্যাংকে চিঠি পাঠাবে পুরসভা। 

Advertisement

মেয়র গৌতম দেব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খোঁজাখুঁজি করেও ওই উপভোক্তাদের সন্ধান মেলেনি। তাই আপাতত তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বোর্ড মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের কেউ উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ নিয়ে পুরসভায় যোগাযোগ করলে তাঁকে তালিকায় ঢোকানো হবে। 
জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা যোজনার অধীনে রয়েছে তিনটি ভাতা প্রকল্প। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা। তিনটি ক্ষেত্রেই উপভোক্তারা মাসে পান ১০০০ টাকা করে। পুরসভা সূত্রে খবর, ১৯৯৪ সালে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সূচনা হয়। সেই সময় তিনটি প্রকল্পে উপভোক্তার সংখ্যা ছিল ৭০০৬ জন। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫৭০ জন। দীর্ঘদিন ধরে তিনটি প্রকল্পের বেশকিছু উপভোক্তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ব্যাপারে ১ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এরপর ‘বেপাত্তা’ কিছু উপভোক্তা আধার নম্বর ও মোবাইল নম্বর নিয়ে পুরসভায় যোগাযোগ করেন। কিন্তু, এখনও খোঁজ নেই ৪৯৬ জনের। 
সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পুরসভার দারিদ্র দূরীকরণ বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। পুরসভার এক আধিকারিক জানান, ওই উপভোক্তাদের খোঁজে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং করা হয়েছে। কাউন্সিলারদের সহায়তায় পাড়ায় পাড়ায় যাওয়া হয়েছে। এমনকী ক্যাম্পও করা হয়েছি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারের অধীনে। তিনি বলেন, সম্ভবত ওই উপভোক্তাদের মধ্যে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। অনেকে আবার অন্যত্র চলে গিয়েছেন। এসব কারণেই তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। 
এতদিন পর্যন্ত ওই উপভোক্তাদের নামে ভাতার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, বেপাত্তা উপভোক্তাদের মাসে হাজার টাকা করে দিতে হলে প্রায়োজন ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ১৯ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা। পুরসভার এক অফিসার জানান, বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে বাতিল উপভোক্তাদের তালিকা পাঠানো হবে ব্যাংকে। কারণ তাঁদের অ্যাকাউন্ট প্রথমে ‘ফ্রিজ’ করা হবে। এরপর বরাদ্দ অর্থ উদ্ধার করা হবে। 
পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের ৪৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৫টিতে এমন উপভোক্তা রয়েছে। যা ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে সর্বাধিক, ১৫৬ জন। এরবাইরে ৪২ নম্বরে ৫৯, ৪১ নম্বরে ৩৮, ৪৪ নম্বরে ২৯, ৩৬ নম্বরে ৪২, ৩৭ নম্বরে ২৩ জন উপভোক্তার খোঁজ মেলেনি। এছাড়া, ১, ৫, ৬, ৭, ১৮, ১৯-২২, ২৪, ২৭, ৩২-৩৫, ৪০, ৪৩, ৪৬ ও ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডেও কিছু উপভোক্তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত সংবাদ