নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্লাউড কিচেনের কারবারি মহিলার অ্যাকাউন্টে রহস্যজনভাবে ঢুকল ৪৭ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কীভাবে এল, তাই নিয়ে রীতিমতো তাজ্জব নুপুর গুপ্তা নামে ওই মহিলাও। ভয় পেয়ে ওই মহিলা ছুটেছেন বেলেঘাটা থানায়। সেখানে অভিযোগও করেছেন। পুলিশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছে, টাকা যে ঢুকেছে তা ঠিক। আয়কর দপ্তরের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করা হয়েছে। কীভাবে, কোথা থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা এল, তা নিয়ে ব্যাংক ও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি মহিলার অজান্তেই ‘ক্লোন’ করা হয়েছে, নাকি কেউ তা ‘লিয়েন’ নিয়েছিল, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলেঘাটা এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলা রান্না করা খাবার বাড়ি বাড়ি সরবরাহের কারবার করেন। ওই এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে তাঁর অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেখানে রোজগারের টাকা গচ্ছিত রাখেন। কেউ অনলাইনে পেমেন্ট করলে, সেই টাকা সেখানে জমা পড়ে। কয়েকদিন ধরে অ্যাকাউন্টে লেনদেন হচ্ছিল না। খরিদ্দাররা জানাচ্ছিলেন, টাকা দেওয়া যাচ্ছে না অনলাইনে। এরমাঝে ব্যাংক একটি নোটিস দিয়ে নুপুরদেবীকে জানায়, তাঁর অ্যাকাউন্টের সমস্ত ধরনের লেনদেন বন্ধ করা হয়েছে। তাঁর অ্যাকাউন্টে ৪৭ কোটি টাকা এসেছে। আয়কর দপ্তর নির্দেশ দিয়েছে সেটি বন্ধ করার। এত টাকার ব্যবসাই তো তিনি করেন না। তাহলে কী করে এই পরিমাণ টাকা ঢুকল, এই নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন মহিলা। সেই সঙ্গে ভয়ও পেয়ে যান। বৃহস্পতিবার তিনি চলে আসেন বেলেঘাটা থানায়। গোটা ঘটনা জানিয়ে অভিযোগ করেন। পুলিশ তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, এই টাকার বিষয়ে বিন্দুবিসর্গ জানেন না নুপুরদেবী। থানার তরফে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, ৪৭ কোটি এসেছে। এই বিপুল লেনদেন আয়কর দপ্তরের নজরে আসায় সেটি বন্ধ করা হয়েছে। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ব্যাংকের কাছে সমস্ত তথ্য চেয়ে চিঠি দেন অফিসাররা। তা হাতে আসার পর বিশ্লেষণ করে তাঁরা জানতে পারবেন, ঠিক কোন অ্যাকাউন্ট থেকে এই টাকা এসেছে। তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, মহিলার অ্যাকাউন্ট ক্লোন হয়ে থাকতে পারে। এমনকী ব্যাংকের কোনো কর্মী সাইবার জালিয়াতদের কাছে এই অ্যাকাউন্টের তথ্য পাচার করেছেন কি না, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।