নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আর্থিক অনিয়মের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নন্দকুমারের ব্যবত্তারহাট কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ক্রেডিট সোসাইটিতে টাকা তোলার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার সমিতি থেকে মোট ৪০লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। একদিনে অতিরিক্ত ২৫লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে। টাকা তোলার জন্য সমিতির সামনে বিরাট লাইন পড়ে যায়। উল্টো দিকে টাকা জমা পড়ছে না। বুধবারও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এই অবস্থায় বুধবার সমিতির পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয়। ব্যবত্তারহাট পূর্ব ও পশ্চিম গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচার চালিয়ে বলা হয়, প্রত্যেকের আমানত সুরক্ষিত আছে। অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও দরকার নেই।
উল্লেখ্য, ওই সমবায় সমিতিতে জমি কেনা এবং লোন ইস্যু করার ক্ষেত্রে বেশকিছু অনিয়ম অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে। তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক তদন্ত করার পর সেই অভিযোগের সত্যতা আরও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরপরই রাজ্য সমবায় দপ্তর তমলুকের এআরসিএসকে গোটা ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেইমতো তিনজনের একটি তদন্ত কমিটি গড়া হয়েছে। সেই কমিটি তদন্ত শুরু করেছে।
সমিতি নার্সিংহোম করার জন্য তমলুকের চককামিনা মৌজায় ১৩ডেসিমল জমি কিনেছে। ২০১১সালে কেনা ওই জমিতে বর্গাদার রয়েছে। এছাড়াও তমলুক ব্লকের রাউতাড়ি মৌজায় ২০ডেসিমল জমি কিনেছে। ওই ৩৩ডেসিমল জমি কেনার জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে সাত কোটি টাকা। জমি কিনতে কমিশন বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে দু’কোটি টাকা। অডিট তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একইসঙ্গে বেশ কয়েকজনকে লোন দেওয়ার ক্ষেত্রেও ন্যূনতম গাইডলাইন মানা হয়নি বলে অভিযোগ। অর্থাৎ সিকিউরিটি ডিপোজিট ঠিকমতো না দেখে মোটা টাকার লোন মঞ্জুর হয়েছে। সমবায় সমিতি কেন এমন ঝুঁকি নিয়েছে এবং গাইডলাইন অমান্য করেছে তা নিয়ে অডিট প্রশ্ন তুলেছে।
অডিট এবং একদফায় তদন্ত শেষে সমিতির এই আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসার পরই গ্রাহকরা উদ্বিগ্ন। সমিতির কোনও ক্ষতি হলে তাঁদের আমানত সুরক্ষিত থাকবে কি না, তা নিয়ে দোলাচলে থাকা অনেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। টাকা তোলার এই হিড়িক আটকাতে সমবায় সমিতি মাইকিং করে। গ্রাহকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়।