Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৪ ভোটে জয়ী ৪ ভিন্ন বিধায়ক! কেরলম নয়, যাদবপুর নিজেই নিজের মডেল

বামফ্রন্ট সরকার থেকে চলে যাওয়ার পর বাংলায় ১৫ বছর ক্ষমতা ধরে রেখেছিল তৃণমূল। এবার জিতল বিজেপি। গোটা বাংলার থেকে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র বরাবরই একটু আলাদা চরিত্রের।

৪ ভোটে জয়ী ৪ ভিন্ন বিধায়ক! কেরলম নয়, যাদবপুর নিজেই নিজের মডেল
  • ৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বামফ্রন্ট সরকার থেকে চলে যাওয়ার পর বাংলায় ১৫ বছর ক্ষমতা ধরে রেখেছিল তৃণমূল। এবার জিতল বিজেপি। গোটা বাংলার থেকে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র বরাবরই একটু আলাদা চরিত্রের। ভোটের ফলপ্রকাশের আগে অনেকে বলছিলেন, যাদবপুরে নাকি চলে কেরল মডেল। কারণ কেরলের মতোই এখানে একটি পার্টি বেশিদিন ক্ষমতায় থাকে না। সরকারে যে দলই থাকুক যাদবপুর চলে নিজের তালে। এখানে ২০১১ সালে তৃণমূল জিতেছিল। ২০১৬ সালে সিপিএম। ২০২১-এ আবার তৃণমূল। ২০২৬ সালে না জিতল সিপিএম, না তৃণমূল। এবার জিতল বিজেপি। এই যুক্তির পর অনেকের যদিও প্রশ্ন, তাহলে কেরল মডেল হল কোথায়? তাহলে বলতে হয় যাদবপুর নিজেই নিজের মডেল।

Advertisement

১৯৬৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত এই বিধানসভায় জিতেছে শুধু লাল। ২০১১ সালে পরিবর্তনের হাওয়ায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে হারান তৃণমূলের মণীশ গুপ্ত। ২০১৬ সালে একই আসনে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে জেতেন সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী। সেবছরই যাদবপুরে বিজেপি তাদের ভোট বাড়ায় ৫ শতাংশ। ২০২১ সালে সুজনবাবু যান হেরে। জেতেন তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদার। সেবছর বিজেপির ভোট বাড়ে ১৮ শতাংশ। ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছিল বিজেপি। এবার ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হল যাদবপুরে। এ ভোটে তৃণমূলের ভোট কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। আর সিপিএমের কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। জিতেছেন বিজেপির শর্বরী মুখোপাধ্যায়। অনেকের প্রশ্ন, গত ১০ বছরে যাদবপুরে বিজেপি কী এমন কাজ করেছে যে জিতল? না কি যাদবপুর মডেল তার পরিবর্তন ঘটানোর চরিত্র অনুযায়ী জিতিয়েছে বিজেপিকে। এবারের তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার বলেন, ‘এটা হাওয়া। আমরা সমস্ত ওয়ার্ডেই পিছিয়ে রয়েছি। এতটা খারাপ ফল হবে ভাবিনি।’ ভোট শতাংশে যে এরকম ধস নামবে তা আশা করেনি বাম কর্মী-সমর্থকরাও। সিপিএমের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কোনও মতে নিজের জামানত ধরে রেখেছেন। সিপিএমের স্বস্তি একটাই, বামের ভোটে জেতেনি রাম। রামের দিকে বেশি ভোট গিয়েছে তৃণমূল থেকে। যাদবপুরের প্রাক্তন বিধায়ক-সাংসদ সুজন চক্রবর্তী বলছেন, ‘যাদবপুর ব্যতিক্রম তো বটেই। ২০১১ সালে প্রবল হাওয়ায় বুদ্ধদেব ভট্টচার্য হেরে যান। তারপর আমি আবার মণীশ গুপ্তকে হারাই। মাঝখানে আবার হেরে গেলাম। এবার বিজেপির হাওয়া। সেই হাওয়া কেটে গেলে আবার আমরা জিতব।’ যাদবপুরে জয়ী বিজেপি প্রার্থী শর্বরী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘যাদবপুর বরাবরই আলাদা। ১৯৮৪ সালে এই যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিতিয়েছিল। তারপর আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরেও যান।’ এর পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘এই জয় শুধু আমার নয়। আমার সঙ্গে যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদের অবদানও অনেক। মানুষ আমাকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন। ইভিএম খোলার সঙ্গে সঙ্গে শুধু পদ্মফুলই ফুটেছে।’ 
সবমিলিয়ে দেশের দক্ষিণের কেরল শুধু নয়, কলকাতা শহরের দক্ষিণের আসন যাদবপুরও ভোট রাজনীতিতে নিজেই আস্ত একটা মডেল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ