নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: হাওড়ার জগৎবল্লভপুর, আমতা ও বাগনানে বাজ পড়ে মৃত্যু হল চারজনের। আহত হয়েছেন আরও দু’জন। সোমবার দুপুরে জগৎবল্লভপুরের মাজু পঞ্চায়েতের হরিনারায়ণপুর এলাকায় বৃষ্টির মধ্যেই ধান রোপণের কাজ চলছিল মাঠে। তখন আচমকা বাজ পড়লে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হল দুই চাষির। মৃতদের নাম মানবেন্দ্র মণ্ডল (৫০) ও অনুপ করের (৫০)। এখানে আহত হন দু’জন। আমতায় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। এদিন বিকালে আমতা থানার সোনামুই গ্রামের ঢাকিপাড়ায় ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সুশান্ত রায় (৩৫)। এদিন বিকালে বাগনান থানার কাঁটাপুকুরে বাজ পড়ে মারা গিয়েছেন এক মহিলা। তাঁর নাম চুমকি বেগম (৪১)।
জগৎবল্লভপুরের মাজুতে কয়েকজন চাষি ধান রোপণ করছিলেন। সেই সময় প্রবল বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতের অভিঘাতে মানবেন্দ্র ও অনুপ ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁদের উদ্ধার করে জগৎবল্লভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বজ্রপাতের জেরে আহত কৃষক দীপক সাউয়ের শরীর অসাড় হয়ে যায়। তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আমতা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আরেক চাষি সনৎ মাইতির দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা দে দিয়েছে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আমতার ঘটনায় মৃত সুশান্ত রায়ের মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতো এদিনও জমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন সুশান্ত। বিকালে পুকুরে নেমে কোদাল পরিষ্কারের সময় বাজ পড়লে মারাত্মক জখম হন তিনি। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আমতা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিন বিকালে বাগনানের কাঁটাপুকুরে বাড়ির সামনে বাগানে ফুল তুলছিলেন চুমকি বেগম। সেই সময় বাজ পড়লে তিনি মারাত্মক জখম হন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাগনান গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাগনান থানার পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।