মঞ্চে নাচ শেষ হতেই ঢুকলেন তিনি। পরনে গাঢ় ধূসর রঙের কুর্তা, সাধারণ ট্রাউজার। ঘড়িতে তখন বিকেল পাঁচটা দশ বা পনেরো। কলকাতার প্রিয়া সিনেমা থেকে ভক্তদের হাত নেড়ে মঞ্চে এলেন। ক্ষমা চাইলেন দেরি হওয়ার জন্য। তারপর ভাঙা বাংলায় বললেন, ‘নমস্কার কলকাতা। কেমন আছ?’ বলিউড তারকারা কলকাতায় এলে বাংলায় কথা বলা চেনা অঙ্ক। ভিকি কৌশলও ব্যতিক্রম নন। তবে শুক্রবারের কলকাতায় নায়ক কোথায় আলাদা? কান্নার কথা সহজে, অকপটে স্বীকার করে নিতে কোনও সমস্যা হল না ভিকির। তাঁর আবদার, ‘আমার সিনেমা আসছে। তাড়াতাড়ি পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে দেখে নেবেন।’ ভিকির এই আন্তরিকতার টানেই হয়তো তাঁর আসন্ন ছবি ‘ছাভা’ দেখতে হলমুখী হবেন দর্শক। কারণ তিনি কলকাতায় মন জিতে নিয়েছেন।
Advertisement
প্রথমে কলকাতার একটি কলেজে প্রচার অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন ভিকি। তাঁকে দেখে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে কলেজ ক্যাম্পাস। তারপর বিকেলে প্রিয়া সিনেমায় এক সাংবাদিক বৈঠকে সামলান একের পর এক প্রশ্নবাণ। এর আগে পর্দায় একাধিকবার নামজাদা ব্যক্তিত্বদের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন ভিকি। সেই তালিকায় নবতম সংযোজন শম্ভাজি মহারাজ। তাঁকে কেবল একজন রাজা নন, ঈশ্বর বলে মনে করেন অভিনেতা। ‘আমি সৌভাগ্যবান যে মুম্বইয়ে জন্মেছি। অনেক মানুষের ভাবাবেগ জড়িয়ে রয়েছে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ, শম্ভাজি মহারাজের সঙ্গে। আমরা ওঁদের ঈশ্বর বলেই মনে করি। তাই দেশাত্মবোধের গৌরব সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ ছিল’, বলছিলেন নায়ক। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সাম্প্রতিক সময় পর্দায় নিয়ে আসা চ্যালেঞ্জের। এই ছবিতে কোন দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল? ভিকির জবাব, ‘রাজ্যাভিষেকের দৃশ্য। রায়গড় দরবারে শম্ভাজি মহারাজের রাজ্যাভিষেক হয়। সেই দরবারের মতোই বিশাল বড় সেটে নির্মাণ করা হয়েছিল। শ্যুটিংয়ে ছিলেন প্রায় ১ হাজার জন। কাকতালীয় বিষয় হল, ১৬৮১ সালে ১৬ জানুয়ারি তাঁর রাজ্যাভিষেক হয়। প্রায় সাড়ে তিনশো বছর পর ওই দৃশ্যের পুনর্নির্মাণ হয় ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি। সেদিন শ্যুটিংয়ে আমি কেঁদে ফেলেছিলাম।’ রোমান্টিক হিরো থেকে সেনা জওয়ান... ভিকির কেরিয়ার বর্ণময়। ‘মাসান’ থেকে যে জার্নির শুরু, তা দশবছর পূর্ণ করছে চলতি বছর। ‘ভাবতে পারিনি এতটা পথ পেরব’, সংক্ষিপ্ত জবাবে প্রত্যয়ী নায়ক। তবে তিনি মনে করেন পর্দায় সংশ্লিষ্ট চরিত্র হয়ে ওঠাই একজন অভিনেতার কাজ। তাঁর কথায়, ‘চরিত্রের মধ্যে যাপন করাটা গুরুত্বপূর্ণ। যাঁর ভূমিকায় অভিনয় করছি, তিনি কীভাবে হাঁটতেন, তাঁর চলাফেরা, কথাবার্তা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য মেনেই কাজ করতে হয়।’ তবে ‘ছাভা’র ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র তথা দেশবাসীর ভাবাবেগের কথা মাথায় রাখতে হয়েছিল নির্মাতাদের। ভিকির কথায়, ‘শম্ভাজি মহারাজ অনেক মানুষের অনুপ্রেরণা। তাই ছবির ক্ষেত্রে সাবধানী হতেই হতো। তাঁর নেতৃত্ব, সাংগঠনিক ক্ষমতা আমাকেও অনুপ্রাণিত করে।’ বিতর্ক তবুও পিছু ছাড়েনি এ ছবির। একটি গানের দৃশ্য বাদ দিতে হয়েছে ছবি থেকে। এ প্রসঙ্গে অভিনেতার অকপট জবাব, ‘ওই গানের মাধ্যমে একটি লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন মহল থেকে তা নিয়ে আপত্তি ওঠে। তাই বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে সিনেমার কোনও ক্ষতি হয়নি। যে দৃশ্য মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করে, সেটি বাদ দেওয়াই ভালো।’
প্রিয়ব্রত দত্ত
ছবি: দীপেশ মুখোপাধ্যায়



