


সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: ফুলহাতা শার্টের উপর ক্রিম রঙের কোট। সাদা হয়েছে চুল। দাড়িও সাদা। চোখে চশমা। প্রায় চার দশক পর নন্দনকাননে পা রাখা অ্যালান বর্ডারকে চেনা মুশকিল। ১৯৮৭-র ৮ নভেম্বর গঙ্গাপাড়ে যে ডাকাবুকো ক্যাপ্টেনের হাতে বিশ্বকাপ উঠেছিল, তার সঙ্গে চেহারায় তফাত অনেকটাই। তার চেয়েও আশ্চর্য্যের হল, বিশ্বজয়ের পর এত বছরেও কখনো ইডেনমুখো হননি তিনি। রবিবার সেজন্যই রোমাঞ্চিত দেখাল বর্ডারকে। স্বপ্নপূরণের সেই দিনটাই যেন টুকরো টুকরো ফ্রেমে জীবন্ত হয়ে উঠল!
ক্লাবহাউসের আপার বক্সে বসে অজি তারকা বলেই ফেললেন, ‘দারুণ খুশির সেই মুহূর্ত চোখের সামনে ভাসছে। ৩৯ বছর পর এলাম ইডেনে। এখনও আগের মতোই রয়েছে। সেই কাপযুদ্ধের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া আন্ডারডগ ছিল। কিন্তু বেশিরভাগ দর্শক আমাদের হয়েই গলা ফাটিয়েছিল। যেন মেলবোর্নে হোম ম্যাচ খেলছি! ওই জয়টা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য বিশেষ মুহূর্ত। আমরা সেই সময় ভাঙা-গড়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম।’
২৫৪ রানের টার্গেট তাড়া করে একসময় নিশ্চিত জয়ের দিকে এগচ্ছিল ইংল্যান্ড। তখনই বর্ডারের বাঁ-হাতি স্পিনে আত্মঘাতী রিভার্স সুইপ মারেন ইংরেজ অধিনায়ক মাইক গ্যাটিং। সেটাই টার্নিং পয়েন্ট। বর্ডারের স্মৃতিচারণ, ‘গ্যাটিং স্পিনটা খুব ভালো খেলত। তবু কিছু একটা করা দরকার ভেবেই আমার বল করতে আসা। তখনকার দিনে রিভার্স সুইপ খুব একটা দেখা যেত না। কিন্তু গ্যাটিং সেটা করতে গিয়েই ক্যাচ তোলে। দেখা হলেই রিভার্স সুইপের কথাটা মনে করাই ওকে। (একগাল হেসে) আর তাতে ও বিরক্তই হয়।’ কী আশ্চর্য, কিছুক্ষণ পরেই সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির পাশে বসে আরও এক আত্মঘাতী রিভার্স সুইপের সাক্ষী হলেন বর্ডার। এক্ষেত্রে ব্যাটারের নাম অঙ্গকৃশ রঘুবংশী!
বিস্ময় কিশোর বৈভব সূর্যবংশী অবশ্য মুগ্ধ করেছে ৭০ বছর বয়সিকে। টেস্টে ১১ হাজারের বেশি রানের মালিকের কথায়, ‘আমি চমৎকৃত। আকর্ষণীয় প্রতিভা। ১৫ বছর বয়সেই দারুণ পরিণত। মারাত্মক আত্মবিশ্বাসী। হাতে সব ধরনের শট রয়েছে। ভেরি গুড টেকনিক। স্পেশাল ট্যালেন্ট। ওর মধ্যে ব্রায়ান লারার ছায়া দেখছি।’ ঝলমলে আবহ, উৎসবমুখর আবেশ মনের কোণে আলতো আক্ষেপও আনছে। তাঁদের সময় যে টি-২০ ফরম্যাটটাই ছিল না। থাকলে উপভোগই করতেন, জানালেন নির্দ্বিধায়, ‘রানই তো করতে হত, তাই না?’
সুনীল গাভাসকরের আমন্ত্রণে ছেলের সঙ্গে কোটিপতি লিগ দেখতে এসেছেন ভারতে। হায়দরাবাদের পর কলকাতা ছুঁয়ে মঙ্গলবার ধরবেন মুম্বইয়ের উড়ান। আর তাতে অবধারিতভাবে বর্ডারের সঙ্গী হবে ইডেনে ফেলে আসা সেই সোনালি দিনের পিছুডাক!