নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: টাকা লুট করে ফেরার গৃহবধূ ধরা পড়ল শাশুড়ির শবযাত্রার সঙ্গী হতে গিয়ে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে রানিগঞ্জ থানার ঝাঁটিডাঙায়। মেয়ের বিয়ে দেওয়া, কিংবা স্বামীর অসুস্থতার নাম করে গ্রামের মহিলাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল অঞ্জু রায়ের বিরুদ্ধে। সোমবার রানিগঞ্জ থানার পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ির পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ, অঞ্জু ৩২জন মহিলার কাছ থেকে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এদিন স্থানীয় মহিলারা ফাঁড়িতে এসে অঞ্জুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। পুলিস প্রত্যেকের কাছে নথি নিয়ে প্রতারণার অঙ্ক কষে।
ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, একাধিক মহিলার সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা করার অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
রানিগঞ্জ থানার আমরাসোতা পঞ্চায়েতের ঝাটিডাঙায় গৃহবধূ অঞ্জু রায়ের বাড়ি। অত্যন্ত মিশুকে ওই বধূর সঙ্গে এলাকার সবার সুসম্পর্ক। অঞ্জু রায় গ্রামের মেয়েদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নও দেখাত। ব্যাঙ্ক বা বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে কীভাবে লোন পাওয়া যায়, সেবিষয়ে ‘উইকিপিডিয়া’ হয়ে উঠেছিল অঞ্জু। ধীরে ধীরে গ্রামের মেয়েদের বিশ্বাস অর্জন করে। লোন পেতে মহিলারা তাকে ভরসা করে নিজেদের যাবতীয় নথি দিতেন। অভিযোগ, সেই বিশ্বাসকে হাতিয়ার করেই টাকা লুটের ফন্দি আঁটে অঞ্জু। এক একজন মহিলার নামে বিভিন্ন জায়গা থেকে লক্ষাধিক টাকা করে লোন তুলে নেয়। গত বছর রাখি পূর্ণিমার পর রহস্যজনকভাবে সে গায়েব হয়ে যায়। এরপরই পাওনাদাররা গ্রামের মেয়েদের লোন মেটাতে চাপ দেওয়া শুরু করে। বিষয়টি জানাতে অঞ্জু রায়ের বাড়ি গেলে, মহিলারা জানতে পারেন সে নিরুদ্দেশ। অভিযোগকারীদের দাবি, ঘরের বউ নিরুদ্দেশ হলেও পরিবারের বাকি সদস্যদের এনিয়ে কোনও উদ্বেগ ছিল না। লোনের বিষয়ে তাদের বলতে গেলে জানানো হতো, এসব বিষয়ে তারা কিছু জানে না। মহিলারা থানাতেও বিষয়টি জানান। এভাবেই সাত মাস কেটে যায়।
সম্প্রতি অঞ্জুর শাশুড়ি মারা যায়। ঘরের বড়বউ আসবে, এই আশাতেই মহিলারা বাড়ির উপর নজর রাখা শুরু করেন। তাঁদের ধারনাই সত্যিই হয়। অঞ্জু শাশুড়ির শেষকৃত্যে অংশ নিতে আসে। গ্রামের মহিলারা সঙ্গে সঙ্গে পুলিসকে খবর দেন। পুলিস এসে অঞ্জুকে আটক করে নিয়ে যায়। এদিন প্রতারিতদের থানায় ডেকে পাঠানো হয়। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সপ্তমী বাগদি, কৃষ্ণা বাউরিরা বলেন, আমাদের নামে লক্ষ টাকা ঋণ করেছে। অথচ আমরা কিছুই জানতাম না। খবর পাই, সেই লোনের টাকায় অভিযুক্ত জমি কিনেছে।
পুলিসের অন্য একটি সূত্রের দাবি, গ্রামের মহিলারা একদমই কিছু জানতেন না, তা নয়। তাঁদের কথার ছলে প্রতারণা করা হয়েছিল। অঞ্জু তাঁদের নামে লোন তুলে অল্প কিছু টাকা তাঁদের হাতে দিত। এও বলত, পুরো লোন সে শোধ করবে। এভাবে অন্যের নামে লোন করে বহু টাকা তুলে সে এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছিল।