অর্ক দে, কলকাতা: কোনো ক্ষেত্রে জমা পড়েনি স্ট্রাকচারাল ডিজাইন, কোথাও আবার সংশোধিত বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এখনও পর্যন্ত কোনো নির্মাণে বড়োসড়ো গলদ ধরা না পড়লেও গত এক সপ্তাহে সমীক্ষায় এমনই বেশ কিছু অনিয়ম নজরে এসেছে যৌথ সমীক্ষক দলের। কোন নির্মাণে কী কী বেনিয়ম, তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সেসব ত্রুটি বা গাফিলতি সংশোধন হলে তবেই সংশ্লিষ্ট নির্মাণস্থলে পুনরায় কাজ চালুর এনওসি দেওয়া হবে। কোন নির্মাণ নিয়ম মেনে হচ্ছে বা হচ্ছে না, তারই অডিট চলছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বাণিজ্যিক এবং আবাসিক (রেসিডেন্সিয়াল) মিলিয়ে অডিটের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে ৩৫০টি নির্মাণ।
তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের পর কলকাতাসহ ১৩টি পুরসভা এলাকায় নির্মীয়মাণ বিল্ডিংগুলির অডিট করানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। তার জন্য এসব অঞ্চলে আপাতত ৩১ জুলাই পর্যন্ত নির্মাণের যাবতীয় কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ছ’তলা বা তার বেশি উচ্চতার আবাসিক বহুতলের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য। এর জন্য তৈরি হয়েছে হাইপাওয়ার কমিটি। সার্ভে করার জন্য বিভিন্ন দপ্তর মিলিয়ে বরোভিত্তিক যৌথ টিম তৈরি হয়েছে কলকাতা পুরসভায়। গত তিন বছরে অনুমোদন পাওয়া বিল্ডিং প্ল্যান বা নির্মাণগুলি এই অডিটের আওতায় রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই অডিটের জন্য ‘ইচ্ছাপত্র’ দিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট নির্মাণের ডেভেলপারকেই। সেই ‘ইচ্ছাপত্র’র ফর্ম্যাটও তৈরি করে দিয়েছে সরকার। নাম দেওয়া হয়েছে ‘গো-অ্যাহেড অ্যাপ্লিকেশন’। সেসব শর্ত এবং ‘ইচ্ছাপত্র’র ভিত্তিতেই ৩৫০টি নির্মীয়মাণ ভবন চিহ্নিত করে শুরু হয়েছে সার্ভে। গত এক সপ্তাহে তার মধ্যে ৫০টি নির্মাণস্থল ভিজিট করেছে যৌথ দল। পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এখনও পর্যন্ত বড়োসড়ো গলদ বা বেআইনি নির্মাণ কোথাও চোখে পড়েনি। বিল্ডিংয়ের অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নির্মাণ কিংবা নির্মাণ সামগ্রীর গুণগত মান খারাপ—এমন বিষয়ও সমীক্ষকদের নজরে আসেনি। তবে নথিপত্র সংক্রান্ত নিয়মকানুন সব ক্ষেত্রে মানা হয়নি, এমন একাধিক নজির সামনে এসেছে। যেমন, কোনো নির্মাণের ভিত তৈরি হওয়ার পর স্ট্রাকচারাল ডিজাইন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে তা হয়নি। আবার বেসমেন্ট তৈরি হয়ে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নির্মাণের সংশোধিত নকশা অনুমোদন করানোর কথা। কেউ কেউ সেটাও পুরসভা থেকে অনুমোদন করাননি। এক আধিকারিক বলেন, ‘যেগুলি নিখুঁতভাবে নিয়ম মেনে হচ্ছে, সেগুলি রিপোর্ট আকারে নথিপত্রসহ হাইপাওয়ার কমিটিতে পাঠানো হচ্ছে। বাকি এই ধরনের যে ত্রুটি-বিচ্যুতি বা অনিয়ম, সেগুলি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থাকেই। তারা উপযুক্ত পদক্ষেপ করলে খতিয়ে দেখে পুনরায় নির্মাণ শুরুর ছাড়পত্র দেবে ওই হাইপাওয়ার কমিটি।